• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৪ দুপুর

‘বোমা মেশিনের’ তাণ্ডবে হুমকিতে পরিবেশ

  • প্রকাশিত ১১:৩৪ সকাল মে ১৬, ২০১৯
বোমা মেশিন
পাথর উত্তোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সিন্ডিকেট ঢাকা ট্রিবিউন

অভিযোগ, টাস্কফোর্সের অভিযানে অনেক সময় বোমা মেশিন পোড়ানো হচ্ছে। কিন্তু, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর যোগসাজশ এবং এ ব্যাপারে কিছু রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতার কারণে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না।

আদালতের রায়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে 'বোমা মেশিন' দিয়ে সিলেটের ভোলাগঞ্জের কোয়ারিতে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে চলছে পরিবেশ ধ্বংসের মহোৎসব। রোপওয়ের সংরক্ষিত এলাকায় প্রশাসনের নাকের ডগায় শতাধিক বোমা মেশিন কিভাবে চলছে তা নিয়ে বিস্ময়ের শেষ নেই স্থানীয়দের। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোলাগঞ্জ রোপওয়ের সংরক্ষিত এলাকা, ধলাই ব্রিজ সংলগ্ন ভোলাগঞ্জ গুচ্ছগ্রামের, লিলাই বাজার এমনকি কালাইরাগ গ্রাম এলাকায় শতাধিক বোমা মেশিন স্থাপন করে অবাধে চলছে পাথর উত্তোলন।  

লাগাতার পাথর উত্তোলনের ফলে ধলাই ব্রিজ, কলাবাড়ী, কালীবাড়ি, ভোলাগঞ্জ আদর্শ গ্রাম, ভোলাগঞ্জ রোপওয়ের সংরক্ষিত এলাকা, মুক্তিযোদ্ধা আদর্শ গ্রাম, কালাইরাগ, দয়ারবাজার ও নতুন বাজার হুমকির মুখে পড়েছে।

উল্লেখ্য, বোমা মেশিন হচ্ছে ইঞ্জিন চালিত এক ধরনের মেশিন। মেশিনটির ইঞ্জিনের সাথে একটি শেইভ (স্থানীয় ভাষায়) ও পাইপ লাগানো থাকে। ইঞ্জিন চালনার শেইভটি মাটির ৪০ থেকে ১৫০ ফুট গভীরে চলে যায় এবং পাইপের মাধ্যমে পাথর উপরে উঠে আসে। এ মেশিনের মাধ্যমে পাথর উত্তোলন মোটেই পরিবেশ বান্ধব নয় বলে দাবি  বিশেষজ্ঞদের।

সিলেটের বিভিন্ন কোয়ারিতে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের বিষয়ে হাইকোর্টে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষ থেকে দুটি রিট রিট আবেদন করা হলে ২০১০ সালের ১৪ জানুয়ারি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন নিষিদ্ধ করে রায় দিয়েছিল আদালত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আইন-শৃংখলা বাহিনীর একটি অংশ, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘বোমা সিন্ডিকেট’, অবাধে চলছে পরিবেশের ধ্বংসলীলা।

স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি)। 

তবে আরএনবির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক নূর মোহাম্মদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “রেলওয়ের নির্ধারিত সীমানা না থাকায় ওই এলাকা থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না।”

বোমা সিন্ডিকেটের সাথে আরএনবির যোগসাজশের বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে এক কোটি টাকা মূল্যের বোমার সরঞ্জাম জব্দ করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।” 

এদিকে রোপওয়ে রক্ষার দায়িত্বের বিষয়টি এড়িয়ে যান কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম। 

তিনি বলেন, ‘‘রেলওয়ের ভূমি রক্ষার দায়িত্ব আরএনবির। এখান থেকে পাথর উত্তোলনের সাথে পুলিশের কোনো যোগসূত্র নেই।”

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাহ শাহেদ আখতার বলেন, “সিলেটের বিভিন্ন কোয়ারিতে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলনের ওপর উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরপরও সংশ্লিষ্টরা এটা মানছে না।”

তিনি জানান, আইন না মানার বিষয়টি জেলা প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরকেও জানানো হয়েছে। 

শাহেদ আখতার অভিযোগ করে বলেন, “টাস্কফোর্সের অভিযানে অনেক সময় বোমা মেশিন পোড়ানো হচ্ছে। কিন্তু, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর যোগসাজশ এবং এ ব্যাপারে কিছু রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতার কারণে তা বন্ধ করা যাচ্ছে না।”

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিজেন ব্যানার্জী বলেন,“ পাথর উত্তোলন বন্ধে বুধবারও (১৫ মে) ভোলাগঞ্জ কোয়ারিতে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ৭টি বোমা মেশিন  ও পাইপ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।” 

ইউএনও জানান, এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।