• রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৩৭ বিকেল

নকলে বাধা দেয়ায় শিক্ষককে মারধর, গ্রেফতার ২

  • প্রকাশিত ০৮:৫২ রাত মে ১৬, ২০১৯
গ্রেফতার
পাবনায় কলেজ শিক্ষককে মারধর করায় ২ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

এই ঘটনায় বুধবার রাতে কলেজের অধ্যক্ষ এস এম আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন

পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বন করতে বাধা দেয়ায় পাবনা সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের শিক্ষক মাসুদুর রহমানকে মারধর ও লাঞ্চিত করার ঘটনায় ২ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এর আগে বুধবার রাতে ওই কলেজের অধ্যক্ষ এস এম আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সজল ইসলাম ও শাফিন শেখ নামের দুইজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়। মামলার দায়েরের প্রেক্ষিতে ঐদিন রাতেই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামী সজল ও শাফিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

 কলেজ অধ্যক্ষ এস এম আব্দুল কুদ্দুস এ প্রসঙ্গে বলেন, "শিক্ষক সমিতিসহ সবার সঙ্গে আলোচনা করে মামলা করতে দেরি হয়েছে। গ্রেফতারকৃত দুই ব্যক্তিকে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সনাক্ত করা হয়েছে। তারা আমার কলেজের ছাত্র ছিল কিনা সেটা আমার জানা নেই। আমার কাছে মনে হয়েছে তারা বহিরাগত"।

ভুক্তভোগী শিক্ষক মাসুদুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, " কলেজের তদন্ত কমিটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ও তদন্ত করে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হলে তাদের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছে। গ্রেফতারকৃত দুইজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল"।

এদিকে এ ঘটনায় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিবলী সাদিক মোবাইলে এ তথ্য ঢাকা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য, গত ৬ মে সরকারি শহীদ বুলবুল কলেজের ১০৬ নং কক্ষে এইচএসসি উচ্চতর গণিত পরীক্ষা চলাকালে সরকারি মহিলা কলেজের দুজন পরীক্ষার্থী অসাদুপায় অবলম্বন করছিল। এ সময় ওই কক্ষের পরিদর্শক মাকসুদুর রহমান তাদেরকে বার বার সতর্ক করেও তাদের থামাতে না পেরে এক পর্যায়ে খাতা কেড়ে নেন।

এ ঘটনার জের ধরে গত ১২ মে দুপুরে প্রভাষক মাকসুদুর রহমান কলেজ থেকে মোটর সাইকেলে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ওই কলেজের ছাত্রলীগের কর্মীরা তার উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় হামলাকারীরা মাকসুদুরকে কিল, ঘুষি এবং লাথি মেরে গুরুতর আহত করে।

এদিকে, মারপিটের একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে চারিদিকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক এ প্রসঙ্গে বলেন, "বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। মামলার প্রেক্ষিতে রাতেই দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে"।