• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:১৪ রাত

কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন শিক্ষক, সাংবাদিক, 'সবাই'

  • প্রকাশিত ০৩:২৬ বিকেল মে ১৮, ২০১৯
ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন
ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

কৃষক আজিজার রহমান বলেন, 'আমি টাকার জন্য কামলা লাগাতে পারছিলাম না। আমার ধান পেকে গেলেও চিন্তায় ছিলাম কীভাবে ধান কাটবো।' 

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় শ্রমিক সংকটে যখন কৃষকরা তাদের ফসল যখন মাঠ থেকে ঘরে তুলতে পারছে না, ঠিক সেই সময় স্থানীয় কৃষি অফিস ও শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা দাঁড়িয়েছেন তাদের পাশে। নিজ উদ্যোগে তারা কেটে দিচ্ছেন জমির পাকা ধান। 

আজ শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার কৃষক আজিজার রহমানের জমিতে দেখা যায় এমনই এক দৃশ্য। 

আজিজারের জমিতে কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা, চকময়রাম সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক  এস এম খেলাল ই-রব্বানী, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান এবং ২০ শিক্ষার্থীসহ অনেকেই ঘাড়ে গামছা নিয়ে ধান কাটতে নেমে পড়েন। দুপুর ১২টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভাবে দেড় বিঘা জমির ধান কাটেন তারা।

কৃষক আজিজার রহমান বলেন, 'আমি টাকার জন্য কামলা লাগাতে পারছিলাম না। আমার ধান পেকে গেলেও চিন্তায় ছিলাম কীভাবে ধান কাটবো। আজ উপজেলা কৃষি অফিসারসহ অনেকেই আমার জমির ধান কেটে দিয়েছেন। আমি চাই এবার ধানের সঠিক মূল্য কৃষকরা যেন পায়।'

উপজেলা কৃষি অফিসার সেলিম রেজা বলেন, 'আমরা আগামী ১০ দিন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহযোগিতায় ধামইরহাটে গরীব কৃষকদের বিনামূল্যে ধান কেটে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি, যাতে কৃষকরা তাদের কষ্টের ফসল ঘরে তুলতে পারে।' 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) গনপতি রায় বলেন, 'বাংলাদেশ কৃষিভিত্তিক দেশ আর আমাদের বর্তমান সরকার কৃষকবান্ধব সরকার। সেই হেতু সরকারি কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের  ব্যতিক্রমী এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। আমার পক্ষ থেকে আমি সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করবো।'