• বুধবার, জুন ২৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪১ দুপুর

গাইবান্ধায় ‘গোপনে’ ধান কিনছে খাদ্য অধিদপ্তর, জানেন না কৃষকরা!

  • প্রকাশিত ০২:৩০ দুপুর মে ১৯, ২০১৯
ধান কেনা
ধান কেনার সময় কোনো কৃষকে দেখা না গেলেও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মিল মালিক, ধান-চাল ব্যবসায়ীরা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

কৃষকদের তালিকা তৈরি না করেও ধান কেনা কিভাবে শুরু করেছেন জানতে চাইলে খাজা নুর রহমান বলেন, ‘দুই একদিনের মধ্যেই ক্রয় কমিটির সভা ডেকে কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হবে।’

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে কৃষকদের না জানিয়ে লুকোচুরি করে বোরো ধান কেনার অভিযোগ উঠেছে খাদ্য অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে। 

১৮ মে, শনিবার কোনো প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই অত্যন্ত গোপনে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়। 

অভিযোগ উঠেছে, সরকারিভাবে ধান কেনার বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কৃষক বা  কৃষক সংগঠন এমনকি গণমাধ্যম কর্মীরাও জানতে পারেননি। তবে খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে স্থানীয় চাল কল মালিক ও ধান-চাল ব্যবসায়ীদের সরব উপস্থিতি ছিল। ফলে সরকারি এই কার্যক্রমের সুফল কারা পেতে যাচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

উপজেলা জাতীয় কৃষক সমিতির সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, “কৃষকদের নিকট থেকে ধান ক্রয় কর্মসূচিতে এতো লুকোচুরি কেন? প্রকাশ্যে মাইকিং করে প্রকৃত কৃষকদের নিকট থেকে ধান ক্রয় করতে হবে। তা না হলে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।” 

স্থানীয় বনগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন সরকার বলেন, “ ধান কেনা নিয়ে এখনও কোনো সিন্ধান্ত হয়েছে কিনা আমার জানা নেই।” 

তবে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা খাদ্য ক্রয় কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শুধুমাত্র একজন কৃষকের নিকট থেকে ৪০০ কেজি ধান ক্রয়ের মধ্যদিয়ে শনিবার বোরো ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়েছে।”

কৃষকদের তালিকা অনুযায়ী ধান কেনা হয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, “জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ওই কৃষকের কাছ থেকে ধান কেনা হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ১২০০ জন কৃষকের কাছ থেকে কৃষকপ্রতি ৪০০ কেজি করে মোট ৪৯২ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে। নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা (সাবেক ইউনিয়ন ব্লক সুপার ভাইজার) জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় সেই কৃষকদের তালিকা তৈরির কথা। ওই তালিকা উপজেলা ক্রয় কমিটির অনুমোদিত হলে সেই তালিকা অনুযায়ী গুদামে ধান ক্রয় করা হবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজা নুর রহমান বলেন, “উপজেলা ক্রয় কমিটির সভা এখনও অনুষ্ঠিত না হওয়ায়, উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের তালিকা প্রণয়ণের কাজ এখনও শুরু করেন নাই।”

কৃষকদের তালিকা তৈরি না করেও ধান কেনা কিভাবে শুরু করেছেন জানতে চাইলে খাজা নুর রহমান বলেন, “দুই একদিনের মধ্যেই ক্রয় কমিটির সভা ডেকে কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হবে।”

প্রসঙ্গত, চলতি মৌসুমে সাদুল্লাপুর সরকারি খাদ্য গুদামে ২ হাজার ৬২০ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল ও ৩৬৫ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষে গত ১৫ মে বোরো চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু করা হয়েছে।