• শনিবার, আগস্ট ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৬ রাত

কঠোর হতে বাধ্য করবেন না: গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্ট

  • প্রকাশিত ০১:২৬ দুপুর মে ২২, ২০১৯
হাইকোর্ট
ফাইল ছবি। ঢাকা ট্রিবিউন

যারা ব্যবসা করে তাদের মানবিক মূল্যবোধ থাকা উচিত। কিন্তু এক্ষেত্রে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষের আচরণ আমাদের কাছে ভালো লাগেনি। আমাদের নমনীয়তাকে দুর্বলতা ভাববেন না। আমরা কঠোর হতে চাই না।

আদালতের আদেশ সত্ত্বেও বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে ক্ষতিপূরণের টাকার কিছু অংশ পরিশোধ না করায় গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।

২২ মে, বুধবার ক্ষতিপূরণের টাকা পরিশোধ না করায় বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। খবর বাংলা ট্রিবিউনের। 

আদালতে গ্রিনলাইনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মো. ওজিউল্লাহ। পা হারানো রাসেল সরকারের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী শামসুল হক রেজা।

শুনানির শুরুতে আইনজীবী মো. ওজিউল্লাহ আদালতকে বলেন, “আদালতের সর্বশেষ আদেশের পর গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তাদের আইনজীবী হিসেবে আমার নাম প্রত্যাহার করতে চাই।”

এ সময় পা হারানো রাসেল সরকারের আইনজীবী শামসুল হক রেজা বলেন, “আমাদের সঙ্গেও কোনও যোগাযোগ করছে না গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ। রাসেলকে চিকিৎসা খরচ বাবদ তিন লাখ টাকা দেওয়ার পর আর কোনও খরচও দিচ্ছে না। এজন্য হাসপাতাল থেকে বাসায় এসে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে তাকে।”

তখন আদালত বলেন, “আমরা অনেক নমনীয়ভাবে কথা বলেছি। গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষ কখনও বলেনি যে, আমাদের এই সমস্যা, আমরা এত টাকা দিতে পারবো না। আবার রাসেলের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করে বিষয়টা মীমাংসা করারও চেষ্টা করেনি। যারা ব্যবসা করে তাদের মানবিক মূল্যবোধ থাকা উচিত। কিন্তু এক্ষেত্রে গ্রিনলাইন কর্তৃপক্ষের আচরণ আমাদের কাছে ভালো লাগেনি। আমাদের নমনীয়তাকে দুর্বলতা ভাববেন না। আমরা কঠোর হতে চাই না। আমাদের কঠোর হতে বাধ্য করবেন না। তারপরও তাদের (গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ) অনুপস্থিতিতে আমরা আজ  আদেশ দিতে চাই না। প্রয়োজনে রুল শুনানির পর যা করার দরকার, তাই করব।”

আদালত গ্রিনলাইনের পরিবহন কর্তৃপক্ষের আইনজীবী মো. ওজিউল্লাকে বলেন, “আপনি যেহেতু এখন পর্যন্ত তাদের আইনজীবী আছেন, আপনি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন।”

এরপর আদালত মামলার পরবর্তী আদেশের জন্য ২৫ জুন দিন নির্ধারণ করেন এবং এই সময়ের মধ্যে বাকি ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেন।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল রাজধানীতে মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রিনলাইন পরিবহনের বাসচালক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাইভেটকার চালকের ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের (২৩) বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

পা হারানো রাসেল সরকারের বাবার নাম শফিকুল ইসলাম। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার জেলার পলাশবাড়িতে। ঢাকার আদাবর এলাকার সুনিবিড় হাউজিং এলাকায় তার বাসা।

এ ঘটনায় সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতি হাইকোর্টে রাসেলের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট দায়ের করেন। পরে আদালত ওই রিটের শুনানি নিয়ে রুল জারিসহ রাসেলকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন।

এরপর গত ১০ এপ্রিল রাসেল সরকারকে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর করে গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ। পরে অবশিষ্ট ৪৫ লাখ টাকা পরিশোধ করতে এক মাস সময় নেন। কিন্তু অবশিষ্ট টাকা দিতে এখনও   যোগাযোগ করেনি গ্রিনলাইন পরিবহন কর্তৃপক্ষ।