• মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৩ দুপুর

থলে বাঁচাতে গিয়ে ভিক্ষুকের মৃত্যু, খুলে মিলল ৮০ হাজার

  • প্রকাশিত ০৮:৪১ রাত মে ২২, ২০১৯
টাকা
প্রতীকী ছবি

ওই থলেটি কখনো স্ত্রী ও সন্তানদের দেখতে দিতেন না খোকা। রাতে ঘুমানোর সময়ও সেটি তার মাথার কাছে থাকতো।

পেশাদার ভিক্ষুক ছিলেন খোকা মোল্লা (৬৫)। বগুড়া শহরের বিভিন্ন এলাকায় দিনভর ভিক্ষা শেষে রাতে বাড়ি ফিরতেন। ভিক্ষা করে পাওয়া টাকা রাখতেন একটি থলেতে। ভিক্ষার ওই থলেটি কখনো স্ত্রী ও সন্তানদের দেখতে দিতেন না খোকা। রাতে ঘুমানোর সময়ও সেটি তার মাথার কাছে থাকতো।

সেই থলে রক্ষা করতে গিয়েই ট্রেনে কেটে মৃত্যু হয়েছে খোকা মোল্লার। থলে খুলে মিলেছে ভিক্ষার ৮০ হাজার ১৯০ টাকা। 

আজ বুধবার সকালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সুখানপুকুর স্টেশনে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত খোকা উপজেলার নেপালতলি ইউনিয়নের ধনঞ্জয় গ্রামের মৃত মনি মোল্লার ছেলে। 

বগুড়া রেল স্টেশন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) কায়কোবাদ ও স্বজনরা জানান,  দীর্ঘ ২৫ বছর ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন খোকা। তার স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে তার ভিক্ষার ওপর নির্ভরশীল ছিল। খোকা সবসময় একটি চটের থলে সঙ্গে রাখতেন। সকালের ট্রেনে বগুড়া শহরে গিয়ে দিনভর ভিক্ষা করে বিকালের ট্রেনে বাড়ি ফিরতেন তিনি। সারাদিন ভিক্ষার টাকা-পয়সা ওই থলেতে রাখতেন। 

বুধবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে খোকা সুখানপুকুর স্টেশনে বগুড়াগামী কলেজ ট্রেনের দুই বগির সংযোগে উঠে বসেন। এ সময় ভিক্ষার থলেটি তার কাঁধে ছিল। ট্রেন প্লাটফর্ম ছাড়ার সময় ঝাঁকুনিতে থলেটি নিচে পড়ে যায়। থলে উদ্ধারে খোকা মোল্লাও লাফ দেন। এ সময় ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়। ওই থলেতে ভিক্ষার ৮০ হাজার ১৯০ টাকা পাওয়া যায়। এ টাকা তার স্ত্রী ও সন্তানদের দেওয়া হয়েছে। পরে প্রশাসনের অনুমতিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার লাশ গ্রামের গোরস্থানে দাফন করা হয়।

উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কালাম আজাদ বাদল বলেন, থলেতে থাকা নোট ও মুদ্রা গুণতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগেছে।

সুখানপুকুর রেল স্টেশন মাস্টার আবদুল মতিন জানান, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের উপস্থিতিতে ওই টাকা খোকার পরিবারকে দেওয়া হয়েছে।