• রবিবার, জুন ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:২৬ রাত

টাঙ্গাইলে পুলিশি নির্যাতনে মাংস ব্যবসায়ীর মৃত্যু, ৮ পুলিশ প্রত্যাহার

  • প্রকাশিত ১১:২৯ সকাল মে ২৫, ২০১৯
টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় পুলিশের নির্যাতনে মাংস ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগে এলাকাবাসীর আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ।ছবি: আব্দুল্লাহ আল নোমান/ঢাকা ট্রিবিউন

এ বিষয়ে গোপালপুর থানার ওসি বলেন, ‘জুয়ার আসর থেকে পুলিশ ৪ জনকে আটক করে। হাকিম দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে আনার পর মৃত্যুবরণ করেন’

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় পুলিশের নির্যাতনে মাংস ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগে এসআইসহ পুলিশের ৮ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। 

শুক্রবার (২৪ মে) রাত ১১টার দিকে গোপালপুর থানায় জেলার পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় তাদের প্রত্যাহার করার ঘোষণা দেন।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ঘটনায় গোপালপুর থানার এসআইসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যহার করা হয়েছে । তাদেরকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির তদন্ত রির্পোট অনুযায়ী পরবতীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, গোপালপুরের ঝাওয়াইল গ্রামে শুক্রবার বিকেলে আব্দুল হাকিম (৫৫) নামের এক ব্যবসায়ীর পুলিশের নির্যাতনে মাংস ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠে । নিহত ওই ব্যক্তির নাম আব্দুল হাকিম (৫৫)। তার বাড়ি ঝাওয়াইল ইউনিয়নের ঝাওয়াইল গ্রামে। তবে পুলিশ নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। 

এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত ৮টার দিকে ঝাওয়াইল গ্রামবাসী গোপালপুর-ঝাওয়াইল সড়কের উপর খরের পালায় আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। বিক্ষোভকারীরা গোপালপুর থানার এসআই তাহের ও এএসআই আশরাফের বিচার দাবি করেন। এসময় পুলিশের কনস্টেবল রোকনসহ ৬ জন আহত হয়। 

স্থানীয়রা জানায়, ঝাওয়াইল টেকনিক্যাল কলেজ মাঠে বিকেলে আব্দুল হাকিমসহ কয়েকজন তাস খেলছিল। এ সময় গোপালপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই)  তাহের ও এএসআই আশরাফের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সাদা পোশাকে মাইক্রোবাস নিয়ে ওই মাঠে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে। সুরুজ্জামান, হারাধন চন্দ্র, গৌরাঙ্গ চন্দ্র ও রিপনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এ সময় পুলিশ আব্দুল হাকিমকে মারপিট করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে সে মাঠেই অসুস্থ্ হয়ে পড়ে। পরে হাকিমকে মাঠে অসুস্থ্য হয়ে পরে থাকতে দেখে এলাকাবাসী গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলীম আল রাজি তাকে মৃত ঘোষনা করেন। 

হাকিমের স্বজনদের অভিযোগ, হাকিম মাঠে দাঁড়িয়ে তাস খেলা দেখছিল। এ সময় সাদা পোশাকে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে আটক করে মারধর করে। পুলিশের নির্যাতনে হাকিমের মৃত্যু হয়েছে। তারা দায়ী পুলিশের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেছেন। 

এ বিষয়ে গোপালপুর থানার (ওসি) হাসান আল মামুন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “জুয়ার আসর থেকে পুলিশ ৪ জনকে আটক করে। হাকিম এ সময় দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতালে আনার পর মৃত্যুবরণ করেন। জুয়া খেলার অভিযান থেকে ৫ হাজার ৮শ’ টাকা এবং তাস উদ্ধার করা হয়।”