• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

ওসিই ছড়ান ভিডিও, গ্রেফতারি পরোয়ানা

  • প্রকাশিত ০২:০১ দুপুর মে ২৭, ২০১৯
ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন
সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

যৌন হয়রানির অভিযোগ বিষয়ে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা  ভিডিওতে ধারণ এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছিল।  

ফেনীর সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। 

২৭ মে, সোমবার বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।

যৌন হয়রানির অভিযোগ বিষয়ে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে জিজ্ঞাসাবাদের ঘটনা  ভিডিওতে ধারণ এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছিল।  

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নজরুল ইসলাম শামীম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর বাংলা ট্রিবিউনের। 

এর আগে গত ১৫ মে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর প্রধান উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) বনজ কুমার মজুমদার জানান, ওসি মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে তদন্তের নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দি রেকর্ড করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা মিলেছে।

গত ৮ মে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়। এর আগে গত ১০ এপ্রিল তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছিল। প্রত্যাহারের পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নে (এপিবিএন) বদলি করা হয়। পুলিশ সদর দফতরের গঠিত কমিটি এর আগে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছিল।

প্রসঙ্গত, সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা যৌন নিপীড়ন করে বলে অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ এ ব্যাপারে সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। গত ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে মাদ্রাসাটির সাইক্লোন শেল্টার ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় সিরাজ উদ্দৌলার সহযোগী দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ নুসরাত পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ১০ এপ্রিল মারা যান।

এদিকে নুসরাত জাহান রাফির আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ ভিডিওতে ধারণ এবং তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। নুসরাত হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

নুসরাত হত্যার ঘটনায় গাফিলতি খতিয়ে দেখতে ১৩ মে পুলিশ সদর দফতর ডিআইজি রুহুল আমিনের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করে। গত ৩০ এপ্রিল রাতে কমিটি সদর দফতরে প্রতিবেদন জমা দেন। এতে বলা হয়, সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনের সঙ্গে মিলে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালানোর সব ধরনের চেষ্টা করেন। বিষয়টি মিডিয়ায় আসার কারণে অপচেষ্টা সফল হয়নি। প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অংশ হিসেবেই ঘটনা বিকৃত করে ওসি মোয়াজ্জেমের পক্ষে পুলিশ সদর দফতরে প্রতিবেদন দিয়েছিলেন এসপি জাহাঙ্গীর আলম। এ কারণে এসপি জাহাঙ্গীর আলমকে বদলি এবং সোনাগাজীর তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ও এসআই ইকবাল হোসেনকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।