• রবিবার, জুন ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:২৬ রাত

শাশুড়ির অনৈতিক সম্পর্কের জেরে সন্তানসহ মায়ের আত্মহত্যা

  • প্রকাশিত ০৯:২৪ রাত মে ২৮, ২০১৯
শার্শা আত্মহত্যা
এই বাড়িতেই আত্মহত্যা করে গৃহবধূ হামিদা ঢাকা ট্রিবিউন

স্থানীয়দের দাবি, শাশুড়ি তার ছেলের বৌকেও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করতেন। রাজি না হওয়ায় শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতনও করতেন।

শাশুড়ির অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং স্বামীকে বলা সত্বেও কোনো প্রতিকার না পেয়ে আত্মহত্যা করেছেন যশোরের শার্শা উপজেলার এক গৃহবধূ।

নিহত নারীর স্বামী ইব্রাহিম, বাবা অহেদ আলী, প্রতিবেশী এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।

এ ঘটনায় নিহত নারীর বাবা অহেদ আলী বাদী হয়ে নিহতের শ্বশুর-শাশুড়িসহ ৫ জনকে আসামি করে সোমবার (২৭ মে) শার্শা থানায় একটি মামলা করেন। ইতোমধ্যে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করেছে।

প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাত ১১টার দিকে শার্শা উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের দীঘা গ্রামের ইব্রাহিমের স্ত্রী হামিদা খাতুন (৩৪), মেয়ে শরিফা খাতুন (১২) ও ছেলে সোহানের (৫) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রথমে হামিদা তার দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে এবং পরে নিজে খেয়ে আত্মহত্যার পথে বেছে নেন।

নিহতদের প্রতিবেশীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই শাশুড়ি মরিয়মের অসামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন হামিদা। এ নিয়ে ছেলে-ছেলে বৌয়ের সঙ্গে মরিয়মের প্রায়ই ঝামেলা হতো। গত শনিবারও তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং পরদিন রবিবার দিনভর ওই ঘটনায় তাদের মধ্যে তিক্ততা চরমে পৌঁছায়। রাতে দুই সন্তানকে বিষ খাইয়ে নিজেও আত্মহত্যার পথ বেছে নেন হামিদা।

স্থানীয়দের দাবি, শাশুড়ি তার ছেলের বৌকেও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করতেন। রাজি না হওয়ায় শারীরিক-মানসিকভাবে নির্যাতনও করতেন।

এদিকে, মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় সোমবার শার্শা থানায় একটি মামলা করেন নিহতের বাবা অহেদ আলী। মামলায় আসামি করা হয়েছে নিহতের শ্বশুর আরাফাত হোসেন (৫৫), শাশুড়ি মরিয়ম বেগম (৪৫), একই এলাকার ছলেমান মণ্ডলের ছেলে ছিদ্দিকুর রহমান (৫৫) এবং চালিতাবাড়িয়া গ্রামের মিনাজউদ্দিনের ছেলে তপন মোল্লা (৫০) ও দীঘা গ্রামের ডাক্তার আব্দুল মজিদ (৬০)-কে। পুলিশ ওইদিনই আরাফাত, মরিয়ম ও সিদ্দিকুরকে আটক করে এবং মঙ্গলবার তাদের আদালতে সোপর্দ করে।

এ বিষয়ে হামিদার বাবা অহেদ আলী ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, ১৫ বছর আগে তার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সে ওই সংসারে অত্যাচার সহ্য করে আসছিল। তার শাশুড়ির সাথে একই এলাকার ডা. আব্দুল মজিদ ও তপন মণ্ডলের অবৈধ সম্পর্ক ছিল। বেশ কয়েকবার তাদেরকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পায় হামিদা ও তার সন্তানরা। এসব ঘটনা জামাই ইব্রাহিমের কাছে বললেও সে কোনো প্রতিকার করতে পারেনি। সর্বশেষ ২৬ মে রাতে ওই ঘটনা নিয়ে শাশুড়ির সঙ্গে ঝগড়া হলে হামিদাকে অপমানজনক কথা বলে তার শাশুড়ি। এ অপমান সহ্য করতে না পেরে প্রথমে দুই সন্তানকে ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ও পরে নিজে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করে। 

বিষয়টি স্বীকার করে হামিদার স্বামী ইব্রাহিম বলেন, ডা. আব্দুল মজিদ, তপন মণ্ডল ও ছিদ্দিকুর রহমানের সাথে তার মায়ের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি তার স্ত্রী এবং মেয়েকেও অনৈতিক কাজ করতে বাধ্য করারও হুমকি দেয় তার মা। এ অপমান সইতে না পেরে সন্তানদের বিষ খাইয়ে ও পরে নিজে বিষ খেয়ে হামিদা আত্মহত্যা করেছে। 

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান ফিরোজ আহমেদ টিংকু ঢাকা টিবিউনকে বলেন, “আমি শুনেছি শাশুড়ির সঙ্গে ছেলে বৌয়ের ঝামেলার কারণে তারা ইঁদুর মারা বিষ খেয়ে মারা গেছে।

শার্শা থানার ওসি এম মশিউর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, গ্রেপ্তার হওয়া তিন জনকে মঙ্গলবার সকালে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।