• শনিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৩৮ রাত

ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে মানববন্ধন করায় গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীকে শোকজ

  • প্রকাশিত ০৪:৪৩ বিকেল জুন ১, ২০১৯
বশেমুরবিপ্রবি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ। ফাইল ছবি

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে প্রশাসন ও সরকার বিরোধী আন্দোলন করবে, উস্কানীমূলক বক্তব্য দেবে এটি আমরা প্রত্যাশা করি না।

ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে "সরকার ও প্রশাসন বিরোধী প্লাকার্ড, ফেস্টুন বহন ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করা"র অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) ১৪ জন শিক্ষার্থীকে। 

গত বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. নূরউদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই ১৪ জন শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

নোটিসে উল্লেখকৃত শিক্ষার্থীরা হচ্ছেন- সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দিগন্ত লস্কর (৩য় বর্ষ), শেখ মেহেদী হাসান (৩য় বর্ষ), নিউটন মজুমদার (স্নাতকোত্তর), ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ইসমাইল হোসেন রিয়াদ (৩য় বর্ষ), সিকদার মাহবুব (৩য় বর্ষ), আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মোঃ নাজমুল হুদা (৩য় বর্ষ), রথিন্দ্রনাথ বাপ্পি (৩য় বর্ষ), মোঃ শিবলী সাদিক (৩য় বর্ষ), মোঃ সিরাজুল ইসলাম (৪র্থ বর্ষ), লোক প্রশাসন বিভাগের মোঃ মিথুন হোসাইন (৩য় বর্ষ), সৌরভ সমাদ্দার (২য় বর্ষ) পরিসংখ্যান বিভাগের রিসালাত আহমেদ অর্ণব (২য় বর্ষ), আইন বিভাগের এস এম আব্দুল্লাহ কাফি (৩য় বর্ষ), ইংরেজি বিভাগের বুলবুল আহমেদকে (স্নাতকোত্তর) এ নোটিস প্রদান করা হয়।

নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, "বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করার অভিপ্রায়ে প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সরকার ও প্রশাসন বিরোধী প্লাকার্ড, ফেস্টুন বহন ও উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান করা এবং অত্যুৎসাহী হয়ে অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন করার আগেই আপনাদের আন্দোলন করার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী একটি গর্হিত কাজ। এ ঘটনায় আপনাদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তা জানানোর জন্য নোটিসে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, "ধানের ন্যায্য মূল নিশ্চিত করার দাবিতে গত ১৫ মে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কৃষকের সন্তানরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচী করেন। এ মানববন্ধনে শুধু ধানের ন্যায্য মূল নিশ্চিত করার দাবি করা হয়। তার ১৫ দিন পর গত ৩০ মে সরকার ও প্রশাসন বিরোধী প্লাকার্ড, ফেস্টুন বহন ও উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ার দাবি করে ১৪ শিক্ষার্থীকে শোকজ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। নোটিস প্রাপ্তরা আতংকের মধ্যে রয়েছেন।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোঃ আশিকুজ্জামান ভূঁইয়া এ প্রসঙ্গে বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকার বিরোধী আন্দোলন করায় তাদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া তারা আন্দোলনের পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোন অনুমতি নেয়নি।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, "এ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে প্রশাসন ও সরকার বিরোধী আন্দোলন করবে, উস্কানী মূলক বক্তব্য দেবে এটি আমরা প্রত্যাশা করি না। এ কারণেই ১৪ জনকে শোকজ করা হয়েছে। আমারা চাই এখানে শিক্ষার্থীরা সুন্দরভাবে পড়োশেনা করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ন পরিবেশ বজায় রাখবে।"