• মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৩ দুপুর

খতনার সময় নড়াচড়া করায় শিশুকে পেটালেন চিকিৎসক

  • প্রকাশিত ০৬:১৮ সন্ধ্যা জুন ২, ২০১৯
বগুড়া শহরে খতনার সময় ব্যথায় নড়াচড়া ও কান্নাকাটি করায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে মারধর করেন চিকিৎসক। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন
বগুড়া শহরে খতনার সময় ব্যথায় নড়াচড়া ও কান্নাকাটি করায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে মারধর করেন চিকিৎসক। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে শিশুটি  বলে, ‘আর কখনো ওই ডাক্তারের কাছে যাবো না, ডাক্তার মারে।'

বগুড়া শহরে খতনার সময় ব্যথায় নড়াচড়া ও কান্নাকাটি করায় পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে মারধর করেছেন চিকিৎসক। 

গতকাল শনিবার সকালে শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম নজরুল ইসলাম। 

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে ওই শিশুটি তার বাবা-মায়ের সঙ্গে বগুড়ায় যায়। সেখানে চিকিৎসক নজরুল ইসলামের কাছে শিশুটির খতনার সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার। পরে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে নার্সসহ ও অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।  অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর নজরুল ইসলাম অস্ত্রোপচার শুরু করেন। কিন্তু ঠিকমত অবশ না হওয়ায় শিশুটি নড়াচড়া ও কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় চিকিৎসক ক্ষিপ্ত হয়ে শিশুটির গালে চড় দেন। এছাড়া তার উরুতে নখের আঁচড় দেওয়া হয়। উপস্থিত নার্সরা অনুরোধ করেও ওই চিকিৎসককে শান্ত করতে পারেননি। এক পর্যায়ে নজরুল ইসলাম নার্স ও অন্যদের অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হতে যেতে বলেন। পরে আবার অ্যানেসথেসিয়া দেওয়ার পর খতনা করানো হয়। 

শিশুর বাবা জানান, ঠিকমত অবশ না হওয়ায় তার ছেলে কান্নাকাটি করলে নজরুল ইসলাম তাকে মারধর করেছেন। তার বিশ্বাস ওই চিকিৎসক মানসিকভাবে অসুস্থ। 

তিনি আরও জানান, তার ছেলে রাতে ঘুমাতে পারেনি। নতুন কাউকে দেখলে আঁতকে উঠছে, ভয় পাচ্ছে। অপারেশন থিয়েটার থেকে বের হয়ে সে বলে, ‘আর কখনো ওই ডাক্তারের কাছে যাবো না, ডাক্তার মারে।' 

আজ রোববার দুপুরে ঘটনাটি ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া পর লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী শিশুর বাবা চিকিৎসকের বিচার চেয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এটিএম নুরুজ্জামান ও আরএমও ডা. শফিক আমিন কাজলের কাছে অভিযোগ করেছেন। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নিলে তিনি ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছে। 

এদিকে অভিযুক্ত চিকিৎসক নজরুল ইসলামের মোবাইল ফোন বন্ধ ও হাসপাতালে না থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের আরএমও ডা. শফিক আমিন কাজল জানান, 'এ ঘটনায় আমরা খুবই বিব্রত। আমি ও তত্ত্বাবধায়ক তাকে ডেকে সাবধান এবং শিশুর পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি।'