• বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:২২ রাত

পুরস্কৃত করা হলো নুসরাতকে বাঁচানোর চেষ্টাকারী কনস্টেবল রাসেলকে

  • প্রকাশিত ০৭:৩৫ রাত জুন ২, ২০১৯
কনস্টেবল রাসেল
নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা পুলিশ কনস্টেবল মো: রাসেলকে সাহসিকতার জন্য তাকে নগদ অর্থ দিয়ে পুরস্কৃত করেছে ফেনী জেলা পুলিশ। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে কোলে তুলে হাসপাতালে নেয়ার সময় হাত পুড়ে গিয়েছিল কনস্টেবল রাসেলের  

নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার সময় তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা পুলিশ কনস্টেবল  মো: রাসেলকে সাহসিকতার জন্য তাকে নগদ অর্থ দিয়ে পুরস্কৃত করেছে ফেনী জেলা পুলিশ। শনিবার পুরস্কার হিসেবে রাসেলের হাতে ১ লাখ টাকা তুলে দেন ফেনীর পুলিশ সুপার (এসপি) কাজী মনিরুজ্জামান। 

এসপি মনিরুজ্জামান এ প্রসঙ্গে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "পুলিশ সদর দফতর থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টে প্রতিবেদনে পুলিশ কনস্টেবল রাসেলের প্রশংসা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে কোলে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কনস্টেবল রাসেলের ভূমিকা ছিল সাহসীপূর্ণ। এজন্য তার হাত পুড়ে গেছে। দ্রুত নুসরাতকে হাসপাতালে নেওয়া না হলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যেতেন। এতে  কনস্টেবল রাসেল পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছেন। এই কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুরস্কার হিসেবে ১ লাখ টাকা প্রদান করা হলো"।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তদন্ত কমিটির সদস্যদের চোখে নুসরাত হত্যাকাণ্ডে ফেনীর এসপিসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবহেলা ও গাফিলতি প্রমাণ যেমন মিলেছে তেমনি অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে  কোলে করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য কনস্টেবল রাসেলের ভূমিকাও ছিল সাহসীপূর্ণ। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এই কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে পুরস্কৃত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়ের দায়ে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলাকে আটক করে পুলিশ। পরবর্তীতে চাপ প্রয়োগের পরও নুসরাত সিরাজের বিরুদ্ধে মামলা তুলে না নেওয়ায় গত ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে নুসরাতকে মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ করে সিরাজের টাকা দিয়ে পোষা অনুসারীরা। এতে নুসরাতের শরীরে ৮০ শতাংশ পুড়ে যায়।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় নুসরাতকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই গত ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯ টায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নুসরাত।