• শনিবার, আগস্ট ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪১ রাত

এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরি নিয়ন্ত্রিত হতো ইউক্রেন থেকে

  • প্রকাশিত ০৬:১৮ সন্ধ্যা জুন ৪, ২০১৯
গ্রেফতার ইউক্রেনের সাত নাগরিক
এটিএম বুথ থেকে টাকা চুরির অভিযোগে গ্রেফতার ইউক্রেনের সাত নাগরিক। ছবি: ফোকাস বাংলা

বাংলাদেশে সফল হলে ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাদের

অভিনব উপায়ে অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথ থেকে টাকা চুরির দায়ে গ্রেফতার ইউক্রেনের সাত নাগরিক বাংলাদেশ থেকে টাকা তুললেও পুরো প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রিত হতো তাদের নিজ দেশ ইউক্রেন থেকে। 

মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল বাতেন।

ইউক্রেনের সাত নাগরিকের মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেফতার ছয়জন হলেন দেনিস ভিতোমস্কি (২০), নাজারি ভজনোক (১৯), ভালেনতিন সোকোলোভস্কি (৩৭), সের্গেই উইক্রাইনেৎস (৩৩), শেভচুক আলেগ (৪৬) ও ভালোদিমির ত্রিশেনস্কি (৩৭)। এছাড়া ভিতালি ক্লিমচুক (৩১) নামের আরেকজন পলাতক রয়েছেন।

ব্রিফিংয়ে আবদুল বাতেন জানান, ইউক্রেনের সেই নির্দেশদাতার নির্দেশে টাকা তোলার পরিকল্পনা করে ঢাকায় এসেছিলেন অভিযুক্ত সাত ব্যক্তি। বুথ থেকে টাকা তোলার সময় মোবাইলের আন্তর্জাতিক রোমিং সিম ব্যবহার করতেন তারা।

আবদুল বাতেন আরও বলেন, "ইউক্রেনের জালিয়াত চক্রটি ডিসকাউন্ট কার্ড ব্যবহার করেছে। তাদের পুরো নেটওয়ার্ক এখনো পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি। তারা এ দেশে এসে নির্দিষ্ট কিছু বুথে ইউক্রেন থেকে কানেকটিভিটি তৈরি করে। এর পর ওই বুথের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। টেলিফোনের মাধ্যমে কানেকটিভি তৈরি করে কার্ড পাঞ্চ করা হতো। কার্ড পাঞ্চ করলে বুথের মধ্য থেকে টাকা আসত। জালিয়াত চক্রটি ইউক্রেনের মোবাইল সিম রোমিং করে যোগাযোগ করত। তারা একটি ডিসকাউন্ট কার্ড ব্যবহার করে এটিএম বুথ থেকে টাকা বের করে আনতো"।

বিদেশি চক্রটির সঙ্গে বাংলাদেশের কেউ জড়িত আছেন কিনা জানতে চাইলে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, " বাংলাদেশের কেউ জড়িত নেই—এটা অবশ্যই বলা যাবে না। বাংলাদেশের কেউ জড়িত আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে"।

বাংলাদেশ টাকা তুলে সফল হলে ইউক্রেনের নাগরিকেরা ভারতকে তাদের পরবর্তী টার্গেট করেছিলেন জানিয়ে আবদুল বাতেন বলেন, "বাংলাদেশে যে মেশিনটা ব্যবহার করা হয়, সেই এনআরসি করপোরেশনের মেশিন ও সফটওয়্যার পুরো দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে ৮ দিনের ভ্রমণ ভিসায় সাত বিদেশি বাংলাদেশে আসেন। বাংলাদেশের পর তাদের ভারতে যাওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভারতে গিয়ে টাকা তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন বলে স্বীকার করেছেন গ্রেফতার ব্যক্তিরা"।

"গ্রেফতার ইউক্রেনের নাগরিকদের কাছে ইসরায়েলের ব্যাংকের একটি ক্রেডিট কার্ড পাওয়া গেছে। একজন ইউক্রেনীয় নাগরিক হয়ে কেন ইসরায়েলি ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করতেন তা নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে যারা এসেছে তারা হয়তো কর্মী হতে পারেন। এরা তথ্যপ্রযুক্তিতে খুব দক্ষ না বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইংরেজি ভাষায় কথাও বলতে পারেন না", যোগ করেন তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার ছয়জনসহ আরও একজনের বিরুদ্ধে খিলগাঁও মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে ৫০টির মতো কার্ড পাওয়া গেছে, যার অধিকাংশতেই ডিসকাউন্ট লেখা। এছাড়াও তাদের কাছ থেকে মুখোশ, টুপি, সানগ্লাস, ছয়টি মুঠোফোন এবং একটি আইপ্যাড জব্দ করা হ