• বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭ সকাল

অস্ট্রেলিয়ায় জঙ্গিবাদী বাংলাদেশি তরুণীর ৪২ বছরের কারাদণ্ড

  • প্রকাশিত ০৩:১২ বিকেল জুন ৫, ২০১৯
মোমেনা সোমা
আদালতে হাজিরার সময় মোমেনা সোমা। ছবি: সংগৃহীত

২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার মাত্র ৯ দিনের মাথায় মেলবোর্নে এক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি নিয়ে হামলা চালায় সোমা 

উগ্রবাদী জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে লিপ্ত হওয়া বাংলাদেশি তরুণী মোমেনা সোমাকে ৪২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার একটি আদালত। আইএসের তথাকথিত জিহাদের অংশ হিসেবে মেলবোর্নে এক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরিকাঘাতের দায়ে বুধবার (৫ জুন) তাকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে। 

মেলবোর্ন সুপ্রিমকোর্টের জজ লেসলি অ্যান টেইলর রায় প্রদানকালে ঘটনাটিকে "ঠাণ্ডা মাথায় হত্যা চেষ্টা" হিসেবে আখ্যা দেন। দেশটির ভিক্টোরিয়া স্টেটের কারাবিধি অনুযায়ী, সোমাকে কমপক্ষে ৩১ বছর ছয় মাস কারাগারে থাকতে হবে। পরবর্তীতে সে প্যারোলের আবেদন করতে পারবে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার মাত্র ৯ দিন পর ৯ ফেব্রুয়ারি মেলবোর্নে রজার সিংগারাভেলু নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে ছুরি নিয়ে হামলা চালায় সোমা। হামলার পর সোমাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান রজার।

এ ঘটনার পর সোমা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য ঢাকার মিরপুরে তাদের বাড়িতে গেলে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের এক কর্মকর্তার ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালায় তার ছোট বোন আসমাউল হুসনা সুমনা।

হামলার পর গ্রেফতার হওয়া সুমনা গত বছর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ থেকে আইএসে যোগ দেওয়া ‘বিদেশী যোদ্ধা’দের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল সোমার। সে নিজেও আইএসের হয়ে যুদ্ধ করতে তুরস্ক হয়ে সিরিয়ায় যেতে চেয়েছিল। এজন্য তুরস্কের আতিলিম ইউনির্ভাসিটি থেকে স্কলারশিপও জোগাড় করেছিল। কিন্তু ঢাকার টার্কিশ অ্যাম্বাসি তাকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে তার আর যাওয়া হয়নি। এরপর অস্ট্রেলিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কলারশিপ নিয়ে সেখানে গিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায় সে। সে সময় সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছিলেন, মোমেনা সোমা অনলাইনে আল-কায়েদা এবং আইএসের ভিডিও দেখে র‌্যাডিক্যালাইজড হয়েছে।

এ বিষয়ে তদন্তের জন্য অস্ট্রেলীয় ও বাংলাদেশি পুলিশ একে-অপরকে সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে থাকে। পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ার আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে নেয় সোমা। সহিংস জিহাদের জন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়ার অভিযোগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালত। এরপর আজ বুধবার সাজা ঘোষণা করা হলো।

রায় প্রদানকালে টেইলর আরও বলেন, "সোমা ভেবেছিলো তার হামলার শিকার হওয়া ব্যক্তি মারা যাবেন। এ নিয়ে তার কোনও অনুশোচনাবোধ নেই, জিহাদি মতাদর্শ থেকে সরে আসতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে সে।" 

তাকে স্বাভাবিক পথে ফিরিয়ে আনার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ বলে হতাশা প্রকাশ করেন বিচারপতি। সাজা ঘোষণা করতে গিয়ে সোমাকে তিনি বলেন, "ঘটনাস্থলে আপনি পুলিশকে বলেছেন যে আইএস খলিফার নির্দেশ পেয়েই আপনি অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন। আপনার কর্ম ও কথা অস্ট্রেলীয় কমিউনিটির মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। কিন্তু তারা (আইএস) আপনাকে শহীদ বানাতে পারেননি। আপনাকে ইসলামের আলোকবর্তিকা বানাতে পারেনি তারা। জান্নাতে যাওয়ার জন্য আপনাকে সবুজ ডানাও দিতে পারেনি। তারা আপনাকে সাধারণ একজন অপরাধী বানাতে পেরেছে।"