• রবিবার, জুন ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:২৬ রাত

গাইবান্ধায় সন্তানদের ‘বিক্রি’ করতে বাধ্য হচ্ছেন বাবা-মায়েরা

  • প্রকাশিত ০৮:০৩ রাত জুন ৯, ২০১৯
শিশু মোস্তফা ও তার নানি জয়গুন বেগম
মাত্র তিন হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছিল নানি জয়গুন বেগমের কোলে থাকা শিশু মোস্তফাকে। পরবর্তীতে নানি জয়গুন বেগম ক্রেতাকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে ফিরিয়ে আনেন বংশ প্রদীপকে। ছবি: ইউএনবি

তাদের সন্তানরা এখন কোথায় তাও জানেন না তারা

দীর্ঘ দিন ধরে নানা রোগে আক্রান্ত সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রাজবাড়ি গ্রামের হাবিল মিয়া। গায়ে খেটে স্ত্রী সন্তানসহ সাতজনের সংসার চালানো বড়ই কঠিন এ দিনমজুরের কাছে।

পরিবারের জন্য মাথাগোঁজার ব্যবস্থা করতে দারিদ্রের কষাঘাতে বিদ্ধ হাবিল ও তার স্ত্রী একপর্যায়ে তাদের নাড়িছেঁড়া ধন দুই মেয়েকে বিক্রি করে জমি ক্রয়ের পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনামতো তারা তাদের পাঁচ মাস বয়সের কন্যা সন্তানকে ৫০ হাজার ও তিন বছরের কন্যা সন্তানকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।

তবে একটুখানি শান্তির জন্য মেয়েদের বিক্রির টাকায় কেনা জমিতে ঘর তুললেও শান্তিমতো ঘুমোতে পারেন না হতদরিদ্র্য হাবিল। প্রায়ই তার মনে পরে মেয়েদের কথা। মেয়েদেরকে একনজর দেখার জন্য মাঝেমধ্যেই মনটা ছটফট করলেও তাদের কথা মুখে নেয়াও বারণ তার! তাছাড়া মেয়রা এখন কোথায় আছে, কার কাছে আছে তাও জানেন না তিনি।

দারিদ্র্যের কারণে এভাবেই গত দুই বছরে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ফুলছড়িতে অন্তত পাঁচটি সন্তানকে বিক্রি করা হয়েছে।

তবে নিজের সন্তানকে বিক্রি করা মোমেনা বেগমের কাহিনিটা একটু ব্যতিক্রম ছিল। তার গর্ভে আট মাসের সন্তান রেখে মারা যান তার স্বামী।

এদিকে জন্মের পর ওই শিশুটির নাম রাখা হয় মোস্তফা। মায়ের সাথে নানির বাড়িতে বড় হচ্ছিল শিশুটি। কিন্তু মোমেনার সাথে পরে আবার বিয়ে হয় গাইবান্ধা সদর উপজেলার দাড়ারবাতা গ্রামের রফিক মিয়ার।

বিয়ের পর রফিক মিয়া মোমেনার কোলের সন্তান মোস্তফাকে মেনে নিতে রাজী নয়। তাই সৎ বাবার চাপের মুখে মোমেনা তার কোলের সন্তানকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন।

পরে ওই এলাকার আমজাদ হোসেনের ঘরে বড় হতে থাকে শিশু মোস্তফা। কিন্তু ঘটনাটি জেনে যায় মোস্তফার নানি জয়গুন বেগম। তিনি নাতিকে ফেরত নিতে গেলে ক্রেতা ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। চাহিদামত টাকা দিয়ে জয়গুন বেগম নাতি মোস্তফাকে ফেরত পেলেও মোস্তফার মতো এমন খুব কম শিশুই রয়েছে যারা বিক্রি হয়ে যাবার পরও পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পায়।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দরিদ্র আশরাফুল ইসলামের অবস্থা হাবিল মিয়ার মতো। বড় সংসারের ভার বহন করতে অক্ষম পরিবারটি তিন বছর আগে দুই কন্যা সন্তানকে ৫ হাজার ও ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিত্তবান দুই ব্যক্তির হাতে তুলে দেন তিনি।

ক্রেতারা সন্তান পাওয়ার পর তাদের নাম পরিচয় বদলে ফেলেন জানিয়ে আশরাফুল ইসলাম বলেন, তারা এখন কোথায় কার কাছে আছে, সে ব্যাপারে কিছুই জানেন না তিনি।