• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৪ রাত

এবার ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্টের সাদা পাথরে নজর পাথরখেকোদের

  • প্রকাশিত ০৫:৩৪ সন্ধ্যা জুন ১০, ২০১৯
সিলেট ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর
সিলেটের ভোলাগঞ্জ এলাকার সাদা পাথর পর্যটন এলাকা। ঢাকা ট্রিবিউন

সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কের শেষ প্রান্তে অবস্থিত ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকা। সুগম যাত্রাপথ হওয়ায় পর্যটন স্পটটি পর্যটকদের কাছে দিন দিনই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জ জিরো পয়েন্টের ‘সাদা পাথর’-এর দিকে এবার শ্যেনদৃষ্টি পড়েছে পাথরখেকোদের। সাদা পাথর এলাকায় স্তূপীকৃত পাথর লুটপাটের জন্য তারা উঠে পড়ে লেগেছে। রাতের আঁধারে পাথর চুরি করতে গিয়ে আটক হয়েছে এ চক্রের সদস্য দুদু মিয়া।

এ ঘটনায় ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে রবিবার (৯ জুন) একটি মামলা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

প্রসঙ্গত, ভারত থেকে নেমে আসা ধলাই নদীর জিরো পয়েন্ট এলাকা স্থানীয়ভাবে ‘সাদা পাথর’ নামে পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে নেমে আসে সাদা রঙের পাথর। স্বচ্ছ জলরাশিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রাশি রাশি পাথর জমে বেশ খানিকটা এলাকাজুড়ে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়েছে পাথরের স্তূপ। সেখান থেকেই পাথর সরানোর চেষ্টা করছে অভিযুক্তরা। তাদের কবল থেকে রক্ষা করে এলাকাটিকে পর্যটন স্পটে পরিণত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা। 

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রফিকুল হক ওই এলাকায় পাথরখেকোদের দৌরাত্ম্য রোধে সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগের সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তিনি মনে করেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ‘সাদা পাথর’ এলাকাসহ ভোলাগঞ্জ হতে পারে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। সমাগম হতে পারে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি পর্যটকের। 

তিনি বলেন, এতে করে পাথরখেকোদের দৌরাত্ম্যও কিছুটা কমবে এবং সরকার বড় অংকের রাজস্বও আয় করতে পারবে।

কোম্পানীগঞ্জ ট্যুরিস্ট ক্লাবের সভাপতি আবিদুর রহমান জানান, নদীতে পানি থাকলে সাদা পাথরের কদর বাড়ে। তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসুরা আসেন ভোলাগঞ্জে। এলাকাটিকে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সাদা পাথর রক্ষা করা জরুরি বলে অভিমত দেন তিনি।

এ বিষয়ে বিজিবির কালাসাদেক ক্যাম্প কমান্ডার ফারুক আহমদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, শনিবার রাত ১১টার দিকে পাথরখেকোরা বেশ কয়েকটি বারকি নৌকা নোঙর করে সাদা পাথর লুটের চেষ্টা করেছিল। তবে বিজিবি তাদের এই অপতৎপরতা রুখে দিয়েছে। এ সময় দস্যু বাহিনীর ছোড়া ঢিলে বিজিবির নায়েক কামরুল আহত হন। তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও জানান, ঘটনার সময় দুদু মিয়া নামে পাথর দস্যুদের একজনকে আটক করে বিজিবি। এ ঘটনায় কলাবাড়ি গ্রামের রাসেল আহমদ ও আতিক, উত্তর রাজনগর গ্রামের আল আমিন, দক্ষিণ রাজনগর গ্রামের জুয়েল ও দুদু মিয়া, বাঘারপাড় গ্রামের সোনাই, উসমান মিয়া, নাজির মিয়া ও আক্কাছ মিয়া, কালিবাড়ি গ্রামের বিল্লাল মিয়া, রাজনগর গ্রামের ফারুক, টুকেরবাজারের হাবিল ও রুহুল আমিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিজেন ব্যানার্জী ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, পাথরখেকোরা নৌকা নোঙর করে সাদা পাথর লুটের চেষ্টাকালে বিজিবি সদস্যরা তাদেরকে প্রতিহত করে। তিনি পাথরখেকোদের কবল থেকে নান্দনিক সৌন্দর্য্যমণ্ডিত এ এলাকাকে রক্ষায় এগিয়ে আসতে স্থানীয় সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, সাদা পাথর দর্শনীয় এবং সংরক্ষিত একটি এলাকা। এর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন এখানে প্রচুর পর্যটক আসছেন। এখান থেকে পাথর চুরির অভিযোগে একজনকে আটক করেছে বিজিবি। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে একটি মামলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ মহাসড়কের শেষ প্রান্তে অবস্থিত ভোলাগঞ্জ সাদা পাথর এলাকা। সুগম যাত্রাপথ হওয়ায় পর্যটন স্পটটি পর্যটকদের কাছে দিন দিনই আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।