• সোমবার, জুন ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৩৭ সন্ধ্যা

তদন্তের তথ্য পাচার: সাময়িক বরখাস্ত দুদক পরিচালক এনামুল

  • প্রকাশিত ০৫:৫৭ সন্ধ্যা জুন ১০, ২০১৯
দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির
দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির সংগৃহীত

তদন্ত চলাকালেই প্রাপ্ত তথ্য অভিযুক্তের কাছে চালান করে দিয়ে আপসরফার মাধ্যমে দুই দফায় ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন তিনি। ডিআইজি মিজান নিজেই এমন অভিযোগ করেছেন দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। চলমান তদন্তের তথ্য অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে প্রকাশের অপরাধে তার বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১০ জুন) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচার মূল কার্যালয়ের সামনে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বলে বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত পুলিশের ডিআইজি মিজানের কাছে তথ্য পাচারের মাধ্যমে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার অভিযোগ তদন্তকারী কর্মকর্তা এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্তের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একইসঙ্গে ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে তদন্তকাজ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

জানা গেছে, গত বছর নারী নির্যাতনের অভিযোগে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয় পুলিশের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে। এরপর তার বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের তথ্য প্রকাশ হলে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এই তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির। তবে তদন্ত চলাকালেই প্রাপ্ত তথ্য অভিযুক্তের কাছে চালান করে দিয়ে আপসরফার মাধ্যমে দুই দফায় ৪০ লাখ টাকা ঘুষ নেন তিনি। ডিআইজি মিজান নিজেই এমন অভিযোগ করেছেন দুদকের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে।

ডিআইজি মিজানের দুদকের কাছে করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া দুদক পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরের সঙ্গে তার চুক্তি ছিল টাকার বিনিময়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাবেন। তবে টাকা নিয়েও শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধেই প্রতিবেদন জমা দেন বাছির। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অবৈধ লেনদেনের এই ঘটনা দুদকের কাছে ফাঁস করেন ডিআইজি মিজানুর রহমান।

তার অভিযোগকে আমলে নিয়ে এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করে দুর্নীতি দমন সংস্থাটি। যদিও দুদক পরিচালক এনামুল বাছির অভিযোগটি অস্বীকার করেন।

এরপর রবিবার বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সোমবার এনামুল বাছিরের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।