• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৪ রাত

যাত্রী হত্যার অভিযোগে ‌‘আলম এশিয়া’ বাসের চালক গ্রেপ্তার

  • প্রকাশিত ০৬:৪৭ সন্ধ্যা জুন ১০, ২০১৯
আলম এশিয়া
আলম এশিয়া বাস সংগৃহীত

রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রী সালাউদ্দিনকে বাসের নিচে চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

গাজীপুরে ভাড়া নিয়ে বিতণ্ডার জেরে যাত্রীকে বাসের নিচে চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে ‘আলম এশিয়া’ পরিবহনের চালক রোকনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (১০ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবি।

এদিকে, যাত্রী সালাউদ্দিন আহমেদের (৩৫) লাশ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে এদিন সকালে স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. প্রণয় ভূষণ দাস জানান, বাসের চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে বুক ও হাতের হাড় ভেঙে গিয়ে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সালাউদ্দিন মারা যান।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই জামাল হোসেন বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় চালকসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।

গাজীপুর পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বলেন, ‘‘নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলার পর আসামিদের গ্রেপ্তারে জোরালো তৎপরতা চালানো হচ্ছে। এটা কোনো দুর্ঘটনার মামলা নয়, নেওয়া হয়েছে হত্যা মামলা। সেই গুরুত্ব দিয়েই আমরা কাজ করছি।’’

উল্লেখ্য, রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যাত্রী সালাউদ্দিনকে বাসের নিচে চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়।

নিহত সালাউদ্দিন রাজধানীর আলুবাজার এলাকার মৃত শাহাবউদ্দিনের ছেলে। তিনি গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘের বাজার এলাকার আতাউর রহমান আতা মেম্বারের বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় স্কটেক্স অ্যাপারেল কারখানায় গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন।

নিহতের স্ত্রী পারুল আক্তার জানান, স্বামী সালাউদ্দিনকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঈদের ছুটিতে ময়মনসিংহে তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান। রবিবার তারা ময়মনসিংহ থেকে আলম এশিয়া পরিবহনের বাসযোগে কর্মস্থল গাজীপুরে ফিরছিলেন। পথে তার স্বামীর সঙ্গে ভাড়া নিয়ে পরিবহনের সহকারীর বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বাসের ভেতরেই সালাউদ্দিনকে মারধর করেন পরিবহনের সহকারী এবং লাথি মেরে তাকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন।

ভয় পেয়ে সালাউদ্দিন তার ভাই জামালকে ফোনে বাঘের বাজার বাসস্ট্যান্ডে এসে দাঁড়াতে বললে তিনি ৫-৬ জনকে সঙ্গে নিয়ে বাঘের বাজার দাঁড়িয়ে থাকেন। তবে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা স্বজনরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই সালাউদ্দিনকে ধাক্কা দিয়ে বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয়। কিন্তু তার স্ত্রীকে নিয়ে বাস চলে যেতে থাকে। স্ত্রীকে না নামিয়ে বাস চলে যেতে থাকলে সালাউদ্দিন দৌড়ে বাসটির সামনে গিয়ে গতিরোধ করার চেষ্টা করেন। এ সময় চালক বাসটি সালাউদ্দিনের ওপর উঠিয়ে দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে দ্রুত গতিতে বাসটি নিয়ে পালিয়ে যান চালক।

পরে পারুল কান্নাকাটি শুরু করলে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে বাসের গতি কমিয়ে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বাসটিকে আটক করতে পারলেও তখন চালক ও তার সহকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।