• সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩১ রাত

প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে নারায়ণগঞ্জে এসে ধর্ষণের শিকার চট্টগ্রামের তরুণী

  • প্রকাশিত ০৮:২০ রাত জুন ১০, ২০১৯
যৌন হেনস্থা
প্রতীকী ছবি

বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ঈদের আগে বাসা থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে বের হয় তার মেয়ে।

প্রেমের টানে চট্টগ্রাম থেকে নারায়ণগঞ্জে ছুটে আসা তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় সোমবার (১০ জুন) দুপুরে তিনজনের নাম উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী তরুণী। 

তার অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ধর্ষককে গ্রেপ্তার না করে উল্টো তাকে চট্টগ্রামের একটি বাসে তুলে দিতে চেয়েছিলো। এছাড়া, অভিযুক্ত ধর্ষকের মা থানায় এলেও তাকে সটকে যেতে সহায়তা করেন এসআই সাইফুল। 

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মাস ছয়েক আগে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে রবিউল ইসলাম সানির সঙ্গে পরিচয় থেকে প্রেম হয় ওই তরুণীর। ঈদের ছুটিতে গত ৭ জুন প্রেমিক সানির আমন্ত্রণে চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে নারায়ণগঞ্জে এলে শহরের গলাচিপা এলাকার শ্যামলী পরিবহন কাউন্টারের পাশে একটি কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন সানি। পরে তাকে বাসে করে চট্টগ্রামে ফেরত পাঠাতে চাইলে তাদের বাকবিতণ্ডায় লোকজন জড়ো হলে সানি পালিয়ে যান। 

মামলায় সানির মা এবং এক ভাইকেও অভিযুক্ত করা হয়।

এদিকে, ওই তরুণী সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পর গত তিনদিন ধরে সদর মডেল থানাতেই অবস্থান করছিলেন তিনি। শ্যামলী কাউন্টারে সানির সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সময় উপস্থিত ছিলেন এসআই সাইফুল। তিনি সানিকে আটক না করে উল্টো তাকে চট্টগ্রামের গাড়িতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। যেতে না চাইলে তাকে থানায় নিয়ে আসেন সাইফুল। এরপর সানির মা থানায় এলে এসআই সাইফুল তাকেও কৌশলে সরে যেতে সহায়তা করেন। 

তবে, মামলায় এসআই সাইফুলের এমন অবহেলা কিংবা আসামিদের সঙ্গে যোগসাজশের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি। এতে থানায়ই আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন ওই তরুণী।

এ বিষয়ে এসআই সাইফুল ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি মেয়েটি ধর্ষণের শিকার আর ধর্ষক ঘটনাস্থলেই ছিলো। রাতে শ্যামলী কাউন্টারে ওই তরুণীর সঙ্গে একটি ছেলের বাকবিতণ্ডা হয়। মেয়েটিকে ছেলেটি গাড়িতে উঠিয়ে দিতে চাইলে সে উঠতে রাজি হচ্ছিল না। তাই আমি তাকে গাড়িতে চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য বলি। কিন্তু ততক্ষণে অভিযুক্ত সানি সেখান থেকে পালিয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, সানির মা থানায় এসেছেন ঠিকই। দুপুরে আমাকে তিনি খাবার খাওয়ার জন্য বাইরে যাওয়ার কথা বলে সেখান থেকে সটকে পড়েন। আসামিদের সঙ্গে আমার কোনো যোগসাজশ নেই।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযুক্তের মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। একমাস পর আমরা রিপোর্ট হাতে পাব।

ওসি আরও বলেন, প্রেমের সম্পর্কের কারণেই মেয়েটি নারায়ণগঞ্জে আসে। তারা সেদিন শ্যামলী কাউন্টারে ঝগড়া করছিল আর সেখান থেকেই তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআই সাইফুল। পরে মেয়েটি ধর্ষণের অভিযোগ তুললে আমরা ওই ছেলের মাকে সঙ্গে নিয়ে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত গিয়ে তাকে ধরার চেষ্টা করেছি। তবে তিনি ‘চালাকি করে’ থানা থেকে সটকে পড়েন। 

অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা (আরএমও) বলেন, রিপোর্ট পাওয়ার আগে কোনোভাবেই ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যায় না। রিপোর্ট পেলেই এ বিষয়ে বলা যাবে।

ভুক্তভোগী মেয়েটির বাবার ভাষ্য, বান্ধবীর বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে ঈদের আগে বাসা থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে বের হয় তার মেয়ে। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না।