• সোমবার, জুন ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৪৯ সন্ধ্যা

ওসি মোয়াজ্জেমকে ধরতে সীমান্তে বাড়তি সতর্কতা জারি

  • প্রকাশিত ০৬:২২ সন্ধ্যা জুন ১২, ২০১৯
ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন
সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোয়াজ্জেম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

‌‘ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন যাতে পালাতে না পারেন সেজন্য পুলিশের হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী  জেলা পুলিশ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে।’

নুসরাত জাহান রাফি হত্যাকাণ্ডে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ফেনীর সোনাগাজীর সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের সীমান্ত অতিক্রম ঠেকাতে বিলোনীয়া স্থলবন্দর এবং ফেনীর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকায় বাড়তি সতর্ক অবস্থান নিয়েছে পুলিশ ও বিজিবি।

বুধবার (১২ জুন) পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পাওয়ার পর সতর্কতা জারি করে ফেনী ইমিগ্রেশন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিলোনীয়া ইমিগ্রেশনের আইসি এসআই সুজাত আলী মাহমুদ ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, ‘‘ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পরই পুলিশের হেডকোয়ার্টার থেকে জেলা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে আমাদের কাছে ওসি মোয়াজ্জেমের পাসপোর্ট নম্বর দেওয়া হয়েছে। তিনি যাতে এই ইমিগ্রেশন ব্যবহার করে কোনো মতেই ভারতে যেতে না পারেন সেজন্য আমরা সতর্ক থাকব।”

তিনি আরো জানান, বিলোনীয়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে যাতায়াত করা সব ধরনের পাসপোর্ট যাত্রীদের ছবি ওয়ান্টেড তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে নিয়ে তাদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই আসা-যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন যাতে পালাতে না পারেন সেজন্য পুলিশের হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী  জেলা পুলিশ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিয়েছে। তাকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ বিভাগ সচেষ্ট।

এদিকে, ৪-বিজিবি ব্যাটেলিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লে.কর্নেল মো. নাহিদুজ্জামান ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, “ওসি মোয়াজ্জেমের দেশত্যাগের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা সর্ম্পকিত কোনো চিঠি বা পরিপত্র আমাদের কাছে আসে নি। তবে আমরা সবসময় সীমান্ত এলাকায় কঠোর অবস্থায় থাকি। দেশে অপরাধ করে কোনো অপরাধী কোনোভাবেই অবৈধভাবে দেশত্যাগ করতে পারবে না।”

উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল এইচএসসি সমমানের আলিম আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে ছাদে ডেকে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যায়। 

এর আগে নুসরাতকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তার মা শিরীন আক্তার বাদী হয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে গত ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের নামে নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। পরে সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেন তিনি। এ ঘটনায় ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গত ১৫ এপ্রিল ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল আইনে মামলাটি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন। এরপর ২৭ মে ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ওই আদালত।