• বৃহস্পতিবার, আগস্ট ২২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:০৫ রাত

সাক্ষ্য দিতে গিয়ে নিজেই খুন হত্যা মামলার স্বাক্ষী!

  • প্রকাশিত ০২:৪০ দুপুর জুন ১৩, ২০১৯
নাটোর
গুরুতর আহত অবস্থায় জালাল উদ্দিনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

যোগেন্দ্রনগর বাজারের কাছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জালাল উদ্দিনের বাম হাত কেটে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ সময় তার বাম পায়ের রগও কেটে দেওয়া হয়।

নাটোরের গুরুদাসপুরে স্বামী পরিত্যক্তা নারী হত্যা মামলার প্রধান স্বাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। 

১৩ জুন, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আদালতে সাক্ষ্য দিতে যাওয়ার পথে উপজেলার যোগেন্দ্রনগর বাজার এলাকায় জালাল উদ্দিন নামের ওই ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। 

নিহত জালাল উদ্দিন গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্রনগর গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, যোগেন্দ্রনগর বাজারের কাছে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জালাল উদ্দিনের বাম হাত কেটে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। এ সময় তার বাম পায়ের রগও কেটে দেওয়া হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা জালাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।  

গুরুদাসপুর থানার ওসি মোজাহারুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। 

স্থানীয়রা ও আহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে ওসি জানান, ২০১৩ সালের ১৩ মে উপজেলার যোগিন্দ্রনগর গ্রামের স্বামী পরিত্যাক্তা সফুরাকে শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করে নদীতে ফেলে দেয় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় সফুরার ভাই বাদী হয়ে স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসী সাইফুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলামসহ আরো কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় জালাল উদ্দিনকে প্রধান স্বাক্ষী করা হয়। 

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আদালতে সাক্ষ্য দিতে বাদী পক্ষের কুশলী অ্যাডভোকেট স্বপনের বাড়ির দিকে রওনা হন জালাল উদ্দিন। যোগেন্দ্রনগর বাজার পার হতেই আসামি পক্ষের লোকজন জালালকে ধরে প্রকাশ্যে এলোপাথারি কুপিয়ে জখম করে এবং বাম হাত কেটে নিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন জালালকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স ও পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জালালের মৃত্যু হয়। 

ওসি বলেন, “হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।”