• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০ রাত

টিআইবি: কালো টাকা সাদার সুযোগ প্রধানমন্ত্রীর ‘শূন্য সহনশীলতা’ অঙ্গীকারের সাথে সাংঘর্ষিক

  • প্রকাশিত ০৯:৪১ রাত জুন ১৪, ২০১৯
টিআইবি
টিআইবি

‘সেই সাথে এবার প্রথমবারের মতো এ অবৈধ বিষয়টিকে পাঁচ বছরের জন্য বৈধতার প্রস্তাব করা হলো। অর্থাৎ দুর্নীতির মহোৎসব ও বিচারহীনতাকে পাঁচ বছর মেয়াদি লাইসেন্স দেওয়া হলো।’

প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগের বিষয়টি অসাংবিধানিক, বৈষম্যমূলক, দুর্নীতিবান্ধব ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির পরিপন্থি বলে মনে করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

বাজেট ঘোষণার পর দিন ১৪ জুন, শুক্রবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি এ কথা জানায়।

প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোসহ কয়েকটি উদ্যোগকে টিআইবি সাধুবাদ জানালেও তারা মনে করে, “সামগ্রিকভাবে ক্রমবর্ধমান সম্পদ ও আয় বৈষম্য নিরসনে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব না রেখে বরং অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসবের অবারিত সুযোগ সৃষ্টি করায় সম্পদ ও আয় বৈষম্য আরও বাড়বে।”

টিআইবি বলছে, “কালো টাকা ব্যবহারের সুযোগপ্রাপ্ত খাতে দুর্নীতির একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হবে, সৎ পথে এসব খাতে আয় ও সম্পদ আহরণের সুযোগ ধূলিস্যাৎ হবে। এর প্রভাবে দুর্নীতির বিস্তৃতি ও গভীরতা আরও বৃদ্ধি পাবে।”

সেই সাথে বাজেটে সংকটাপন্ন ব্যাংক খাত সংস্কারে কার্যকর কোনো পথ নির্দেশ বা পরিকল্পনা না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “সুশাসন ও ন্যায্যতার পরিপন্থি হলেও দফায় দফায় কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে এসেছে একের পর এক সরকার। সংবিধান লঙ্ঘন ও দুর্নীতির প্রতি প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত শূন্য সহনশীলতার পরিপন্থি হলেও এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে এ অনিয়মকে বাদ না দিয়ে বরং এর পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। ফ্ল্যাটের পাশাপাশি এবার জমি কেনাকেও যোগ করা হয়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে শিল্প স্থাপনে ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগ করা যাবে। সেই সাথে এবার প্রথমবারের মতো এ অবৈধ বিষয়টিকে পাঁচ বছরের জন্য বৈধতার প্রস্তাব করা হলো। অর্থাৎ দুর্নীতির মহোৎসব ও বিচারহীনতাকে পাঁচ বছর মেয়াদি লাইসেন্স দেওয়া হলো।”

ড. জামানের মতে, কেবলমাত্র ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে অবৈধ আয়কে বৈধতা দেয়ার অর্থ সমাজে বৈধভাবে উপার্জন করাকে নিরুৎসাহিত করা, যা চরম বৈষম্যমূলক। কারণ সৎ পথে উপার্জনকারীকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কর দিতে হয়।

“দুর্নীতির কাছে রাষ্ট্রের এ আত্মসমর্পণ কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে তা সরকারকে অনুধাবন করতে আহ্বান জানাই। অন্যদিকে, রেকর্ড পরিমাণ খেলাপি ঋণ, অনিয়ম, দুর্নীতি ও যোগসাজশের অপসংস্কৃতিতে ধুঁকতে থাকা সংকটাপন্ন ব্যাংক খাত সংস্কারে বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো উদ্যোগ না থাকায় তা এ খাতকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাবে”, যোগ করেন তিনি।

ক্রমবর্ধমান রাষ্ট্রীয় ঋণের বিষয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে ড. জামান বলেন, “বিশাল অঙ্ক ব্যয়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে এমন বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে অর্থের যথার্থ ব্যয় এবং কার্যকর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রস্তাবিত বাজেটে সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা ও প্রস্তাবনা না থাকা অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের শূন্য সহনশীলতা অঙ্গীকারের সাথে সাংঘর্ষিক।”

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের (বিসিসিটিএফ) জন্য কোনো বরাদ্দ না করায় হতাশা প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির প্রেক্ষিতে বাজেটে কোনো বরাদ্দ না রাখাটা একবারেই অযৌক্তিক এবং উল্টো পথে হাঁটার সামিল।”

বিসিসিটিএফে কমপক্ষে এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জলবায়ু বাজেটে ঝুঁকিপূর্ণ খাত ও এলাকা চিহ্নিতকরণ ও অগ্রাধিকারসহ ব্যয়িত অর্থের ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে কৌশলগত দিক-নির্দেশনার দাবি জানান তিনি।