• রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫১ দুপুর

সমকামিতায় বাধ্য করায় বিএনপি নেতা নুরুলকে হত্যা

  • প্রকাশিত ০৬:২৬ সন্ধ্যা জুন ১৮, ২০১৯
বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম
বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে পুলিশ

সমকামিতায় বাধ্য করায় রাগে ও ক্ষোভে বিএনপি ও পরিবহন শ্রমিক নেতা নুরুল ইসলামকে (৫৪) হত্যা করে এক কিশোর। ইতোমধ্যে, ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুরে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) ইফতে খায়ের আলম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

এর আগে সোমবার ওই কিশোর আদালতে হত্যাকাণ্ডের এই কারণ জানিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামি বাদে সাক্ষী হিসাবে আরও তিনজন আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানিয়েছে।  

ওই কিশোর আদালতে তার জবানবন্দীতে বলেছে, প্রতিবেশী বলে সে নূরুল ইসলামকে নানা বলে ডাকত। কিন্তু নুরুল ইসলামের সমকামিতার বদ অভ্যাস ছিল। তিনি ওই এলাকার বিভিন্নজনকে এ কাজে ব্যবহার করতেন। নুরুলের ফাঁদে পড়েছিল সে নিজেও। টাকার লোভ দিয়ে প্রায়ই নুরুল তার সঙ্গে সমকামিতায় লিপ্ত হতেন। এতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে তাকে বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন নুরুল। ফলে ওই কিশোর তার সঙ্গে যেতে বাধ্য হতো।

সে আদালতে আরও জানিয়েছে, গত ১০ জুন রাতেও নুরুল ইসলাম ওই কিশোরকে ইটভাটায় নিয়ে যান। সেখানে ওই কিশোর তার গলা টিপে ধরে। এরপর ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই নুরুলের মৃত্যু হয়। সমকামিতায় বাধ্য করার কারণেই নুরুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওই কিশোর।

এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, "ওই কিশোর একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত নয়। আদালতে সে এ কথা বলেছে। মামলার তদন্ত শেষ। তাই দ্রুতই আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে"। 

উল্লেখ, গত ১১ জুন সকালে পুঠিয়ার কাঠালবাড়িয়া গ্রামের একটি ইটভাটা থেকে নুরুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নুরুলের মেয়ে বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৬ ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন। এর প্রেক্ষিতে গত রবিবার নুরুল ইসলামের প্রতিবেশী ওই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।