• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৫৪ সন্ধ্যা

যুবলীগ নেতার মায়ের মৃত্যুতে চিকিৎসককে মারধর

  • প্রকাশিত ০৬:৪৮ সন্ধ্যা জুন ১৯, ২০১৯
মারপিট
প্রতীকী ছবি

অভিযুক্তদের দাবি, ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকেরা ঠিক মতো চিকিৎসা দেন না

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যুবলীগ নেতার মায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসারকে (আরএমও) মারপিট ও জরুরি বিভাগে ভাংচুর করার অভিযোগ উঠেছে পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস ইসলামের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ইলিয়াস ইসলাম, তার বাবা দুদু মিয়া এবং তার ভাই গোলাম রাব্বীর বিরুদ্ধে শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী ওই আরএমও দেলোয়ার হোসেন নয়ন। তবে, বুধবার বিকাল পর্যন্ত পুলিশ আসামিদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন বিকালে যুবলীগ নেতা ইলিয়াসের মা ডলি বেগম (৫২) বাড়িতে অসুস্থতা বোধ করায় তাকে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে তিনি মারা যান।

এদিকে তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছলে পরিবারের সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন এবং চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগ তুলে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে হামলা চালিয়ে দরজা, জানালা ও আসবাবপত্র ভাংচুর করেন।

পরে দোতলায় উঠে আরএমও দেলোয়ার হোসেন নয়নকে মারপিট করেন ইলিয়াস ও তার পরিবারের সদস্যররা। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনা প্রসঙ্গে আরএমও ডা. নয়ন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "সম্ভবত ডলি বেগম ঘুমের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। ঘটনার সময় আমি ছিলাম না। রোগীর স্বজনরা ভুল বুঝে আমাকে মারপিট করেছেন"।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সানোয়ার হোসেন বলেন, "ডাক্তারকে মারপিট, ভাংচুর ও সরকারি কাজে বাধা দেয়ায় মামলা হয়েছে। আসামিরা পালিয়ে যাওয়ায় বুধবার বিকাল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি"।

এদিকে অভিযুক্ত ইলিয়াস ইসলাম দাবি করেন, "রাত সাড়ে ১০টায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোরে কোন চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। ফোন করে ডাক্তারকে ডেকে আনতে হয়। আমার মা চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন। তাই উত্তেজিত জনতা ভাংচুর চালায় এবং চিকিৎসকে মারপিট করেন"।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, "এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকরা সঠিকভাবে রোগীদের সেবার দেননা। এ কারণে মাঝে মধ্যেই দু:খজনক ঘটনা ঘটে থাকে"।