• শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৪ রাত

রোহিঙ্গা নিয়ে দুশ্চিন্তা বেইজিংকে জানাতে চায় ঢাকা

  • প্রকাশিত ০৮:৫৭ রাত জুন ২৩, ২০১৯
রোহিঙ্গা
প্রত্যাবাসনবিরোধী স্লোগান দিয়ে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ। ফাইল ছবি/এএফপি

মন্ত্রী বলেন, ‘যদি এ সমস্যা (রোহিঙ্গা সংকট) দীর্ঘ দিন ধরে সমাধানহীন অবস্থায় থেকে যায়, তাহলে এ অঞ্চলে মৌলবাদের উত্থান হতে পারে।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ দিনের অবস্থানের ফলে এ অঞ্চলে ‘মৌলবাদ ও অনিশ্চয়তা’ সৃষ্টির জন্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন চীন সফরে বেইজিংকে জানাতে চায় বাংলাদেশ।

আগামী ১ থেকে ৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফর নিয়ে আজ রোববার নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘যদি এ সমস্যা (রোহিঙ্গা সংকট) দীর্ঘ দিন ধরে সমাধানহীন অবস্থায় থেকে যায়, তাহলে এ অঞ্চলে মৌলবাদের উত্থান হতে পারে। যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পায়, পুরো অঞ্চল জুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।’

আর এ অঞ্চলে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে নিজেদের প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে চীন সমস্যায় পড়তে পারে বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন।

ড. মোমেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুটি অগ্রাধিকার তালিকায় থাকবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়গুলোও থাকবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চীন মিয়ানমারে অনেক বিনিয়োগ করছে। তারা বাংলাদেশেও বিনিয়োগ করছে। কিন্তু এ অঞ্চলে শান্তি ও শৃঙ্খলা না থাকলে বিনিয়োগ কোনো কাজে আসবে না। আমরা চীনকে এটা বোঝাবো।’

যতোটা সম্ভব বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমারের ভালোর জন্য এ অঞ্চলে শান্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তি অনুসারে দুই বছরের মধ্যে রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফেরানোর ব্যাপারে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ চায় প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন চীন সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পুনরায় সক্রিয় করার ব্যাপারে চীন মিয়ানমারকে চাপ দেবে।

প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ এবারের বেইজিং সফরে নিজেদের ‘কৌশলগত অংশদারিত্বকে’ নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ ও চীন।

২০১৬ সালের অক্টোবরে চীনের প্রধানমন্ত্রী শি জিংপিংয়ের ঢাকা সফরে চীনের নেওয়া উদ্যোগ বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে (বিআরআই) বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়। এই বিআরআই কাঠামোর মাধ্যমে চীন নিজেদের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা অন্যান্য দেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চায় এবং সেই সঙ্গে এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে চায়।