• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩১ রাত

মাদকসেবীদের ধরে ধরে ফেসবুক লাইভে নিচ্ছে পুলিশ

  • প্রকাশিত ১০:৪৯ রাত জুন ২৩, ২০১৯
ফেসবুক লাইভ
হিলিতে মাদকসেবীদের আনাগোনা রুখতে নতুন পদ্ধতি ফেসবুক লাইভ। ঢাকা ট্রিবিউন

সামছু মিয়া নামের একজন ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, 'আজ রবিবার সন্ধ্যায় হিলির সাতকুড়িতে মাদক খেতে এসে এলাকাবাসী এবং পুলিশের কাছে ধরা পড়ি'

দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা হিলিতে মাদকসেবীদের আনাগোনা বন্ধ করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সেখানকার পুলিশ। সেখানে আটক মাদকসেবীদের শাস্তি হিসেবে তাদের নিজেদের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ফেসবুক লাইভে এসে মাদক না গ্রহণ করানোর প্রতিজ্ঞা করানো হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার বিকেল থেকে সন্ধা পর্যন্ত হিলি সীমান্তের সাতকুড়ি এলাকায় স্থানীয় যুবসমাজ ও সাধারন মানুষকে নিয়ে পুলিশ মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এসময় মাদকসেবনের দায়ে বিভিন্ন স্পট থেকে ১১জন মাদকসেবীকে আটক করে পুলিশ। এরা সকলেই নিজেদের ফেসবুক লাইভে এসে এভাবে আর কখনও মাদকগ্রহন না করার স্বীকারোক্তি দেয়। একই সাথে আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।

রবিবারের এই অভিযানে আটককৃতদের সকলেই গাইবান্ধা ও রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা। এদের মধ্যে কেউ শিক্ষক, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ বা ছাত্র, কেউ বা সাংবাদিক রয়েছেন।

এদের মধ্যে সামছু মিয়া নামের একজন ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, "আমি সামছু মিয়া আমার বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। আমি দীর্ঘদিন থেকে দিনাজপুরের হিলিতে এসে নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের মাদক গ্রহণ করি। আজ রবিবার সন্ধ্যায় হিলির সাতকুড়িতে মাদক খেতে এসে এলাকাবাসী এবং পুলিশের কাছে ধরা পড়ি। মাদক গ্রহণ অপরাধ এবং ক্ষতিকর। আর কখনও মাদক গ্রহণ করবো না। আপনারা কেউ কখনও মাদক গ্রহণ করবেন না। সেই সাথে হিলিতে কেউ মাদক নিতে আসবেন না। আসলে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে এভাবেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করতে হবে"।

এ বিষয়ে হাকিমপুর (হিলি) সার্কেলের সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আখিউল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "মাদক একটি সামাজিক সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। সামাজিক ভাবেই দমন করা না গেলে কখনই মাদক দমন করা সম্ভব নয়। অনেক মাদকসেবীর পরিবার, প্রতিবেশি, সহকর্মী জানেন না যে তাদের খুব কাছের লোকটি একজন মাদকসেবী। এর ফলে ওই মাদকসেবীকে ঘৃণা বা প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতেও পারেন না।  ফেসবুক লাইভে এসে মাদকসেবীদের প্রতিজ্ঞা একটি সামাজিক প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করবে"।

প্রসঙ্গত, সীমান্ত এলাকা হওয়ায় অন্যান্য এলাকার চাইতে হিলিতে মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা বেশি। এ কারণে এখানে সবসময় আনাগোনা থাকে মাদকসেবীদের। এদের নিয়ন্ত্রণ করতে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযান পরিচালনা করে আসছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এরই ধারাবাহিকতায় তাদের এই অভিনব উদ্যোগ।