• বুধবার, জুলাই ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৪ রাত

বাবা-মায়ের ‘অপরাধে’ কারাগারে আড়াই বছরের শিশু!

  • প্রকাশিত ০২:৩৪ দুপুর জুন ২৬, ২০১৯
টাঙ্গাইল
বাবা-মায়ের সঙ্গে আড়াই বছরের শিশু মারিয়া। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

‘চুরির মামলায় বাবা ও মায়ের সঙ্গে তাদের আড়াই বছরের শিশু মারিয়াও গত ২৪ জুন বিকেল থেকে টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছে।’

টাঙ্গাইলের সখীপুরে চুরি অভিযোগে করা একটি মামলায় বাবা ফরিদ উদ্দিন খান ও মা নুর ভানুর সঙ্গে কারাগারে রয়েছে তাদের আড়াই বছরের শিশু মারিয়া। গত তিন ধরে শিশু মারিয়া বাবা-মায়ের সঙ্গে কারাবাস করছে।  

গত ২৪ জুন, সোমবার টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক আদেশের পরিপেক্ষিতে পরিস্থিতি সাপেক্ষে বাবা-মায়ের সঙ্গে ওই শিশুও কারাগারে যেতে বাধ্য হয়। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,গত ২১ জুন রাতে সখীপুর পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের গড়গোবিন্দপুর গ্রাম থেকে শিশু মারিয়ার বাবা মাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরের দিন গত ২২ জুন সকালে সখীপুর থানা পুলিশ গ্রেফতারকৃত স্বামী-স্ত্রীকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।  ওই আবেদনের পরিপেক্ষিতে টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। দুই দিনের রিমান্ড শেষে গত ২৪ জুন স্বামী-স্ত্রীকে দ্বিতীয় দফায় আবারও একই আদালতে হাজির করা হয়।  এ সময় তাদের সঙ্গে আড়াই বছরের শিশু সন্তানও ছিল। পরে বিচারক শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার জানা যায়, পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওয়াদুদ হোসেনের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন নুর ভানু। একদিন বাসার আলমারির তালা ভেঙে নুর ভানু স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করে স্বামীর মাধ্যমে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই আসামি করে চুরির অভিযোগে মামলা করেন ওয়াদুদ হোসেন।

এ ব্যাপারে মামলা আইও  এবং থানার এসআই  ওমর ফারুক বলেন, “চুরির মামলার আসামি স্বামী-স্ত্রীকে আদালতের মাধ্যমে টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।” 

টাঙ্গাইলের আদালত পরিদর্শক তানবীর আহাম্মেদ বলেন, “গত ২৪ জুন টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সখীপুর আমলি আদালতের বিচারক আকরামুল ইসলাম শুনানি শেষে জামিন না মঞ্জুর করে স্বামী-স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় তাদের সঙ্গে আড়াই বছরের শিশু মারিয়াও ছিল।” 

বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশুকে জেলে পাঠানো প্রসঙ্গে সখীপুর থানার ওসি আমির হোসেন বলেন, “স্বামী-স্ত্রী দুজনেই এজাহারভুক্ত আসামি কিন্তু তাদের শিশু সন্তান মারিয়া, আসামি নন। কিন্তু তারা (আসামিরা) ওই সন্তানকে দেখভালের জন্য কোথায় রেখে যাবেন? আমরা আসামিদের সঙ্গে দুগ্ধপোষ্য শিশু রয়েছে বলে বিষয়টি বিজ্ঞ আদালতকে অবগত করেছি।”

এদিকে এ বিষয়ে ২৬ জুন, বুধবার দুপুরে জেলা কারাগারের জেলার আবুল বাশার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “চুরির মামলায় বাবা ও মায়ের সঙ্গে তাদের আড়াই বছরের শিশু মারিয়াও গত ২৪ জুন বিকেল থেকে টাঙ্গাইল কারাগারে রয়েছে।”