• সোমবার, আগস্ট ২৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৬ রাত

কৃষককে ঠকিয়ে খাদ্যগুদামে ধান দিচ্ছেন আওয়ামী লীগ নেতা

  • প্রকাশিত ০৪:৩৩ বিকেল জুন ২৬, ২০১৯
গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জের মানচিত্র

কৃষকদের অভিযোগ, ইউনিয়নের কৃষকের কাছ থেকে কৌশলে কৃষি কার্ড সংগ্রহ করেন সেলিম রেজা।  এ কার্ড নিয়ে তিনি কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের সাথে যোগসাজশ করে খাদ্য গুদামে একাই ধান সরবরাহ করতে শুরু করেন।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে কৃষকের পরিবর্তে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করছেন রাজপাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সেলিম রেজা।ওই ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত ধানের সিংহভাগ তিনি একাই দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

কৃষকদের অভিযোগ, ইউনিয়নের কৃষকের কাছ থেকে কৌশলে কৃষি কার্ড সংগ্রহ করেন সেলিম রেজা।  এ কার্ড নিয়ে তিনি কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেনের সাথে যোগসাজশ করে খাদ্য গুদামে একাই ধান সরবরাহ করতে শুরু করেন। 

ভক্তভোগী কৃষকরা জানান,সেলিম রেজা কৃষকের কাছ থেকে ধান না কিনে রাজপাট বাজারের ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধান কিনে খাদ্য গুদামে ২ বার সরবরাহ করেছেন। একই কায়দায়  কৃষকদের বঞ্চিত করে সম্প্রতি আরো ১০ টন ধান দেওয়ার প্রস্তুতি নেন সেলিম রেজা। এ জন্য তিনি গত সপ্তাহে খাদ্য গুদাম থেকে বস্তা সংগ্রহ করেন। এ জন্য গত ২৪ জুন, সোমবার রাতে সেলিম রেজা রাজপাট বাজারের ধান ব্যবাসয়ী দেলোয়ার শেখের কাছ থেকে ১০ টন ধান কেনেন। সেলিম রেজা ওই রাতেই দেলোয়ার শেখের গুদাম ঘরে বসেই খাদ্য গুদামের সরবরাহকৃত সরকারি বস্তায় ধান বস্তাজাত করেন। বিষয়টি  জানাজানি হয়ে যাওয়ার পর বঞ্চিত কৃষকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ঘর গুদাম ঘেরাও করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ উপস্থিত হওয়ার আগেই ওই ঘর তালাবদ্ধ করে সেলিম রেজা ও তার লোকজন পালিয়ে যান।  এ কারণে নির্ধারিত সময়ে তিনি ওই ১০ টন ধান দিতে পারেননি।

ভাটিয়াপাড়া খাদ্য গুদাম অফিস সূত্রে জানা গেছে,কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ইউনিয়ন থেকে সরকার ধান সংগ্রহের প্রথম পর্যায়ে ২৮ টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ পর্যন্ত ওই ইউনিয়ন থেকে ১৮ টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। আরও ১০ টন ধান সংগ্রহ এখনো বাকি রয়েছে।

রাজপাট গ্রামের কৃষক শুকুর খোন্দকারের ছেলে রবিউল খোন্দকার বলেন, ১৫ দিন আগে আমাদেরসহ রাজপাট গ্রাম থেকে বেশ কয়েকটি কৃষি কার্ড সংগ্রহ করেন সেলিম রেজা। তিনি আমাদের কাছ থেকে ধান নেননি। রাজপাট বাজার থেকে ধান কিনে গুদামে সরবরাহ করার চেষ্টা করেন। জানতে পেরে সোমবার রাতে আমরা বাঁধা দেই। পরে তারা ওই ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান।

ভাটিয়াপাড়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম রেজার সাথে যোগসাজশের কথা অস্বীকার করে বলেন,“১০ জন কৃষককে নিয়ে সেলিম রেজা আমার কাছে এসে তাদের কৃষি কার্ড জমা দেয়। আমি ধান ক্রয়ের জন্য তাদের কাছে সরকারি বস্তা দিয়ে দেই। তারা এ বস্তায় ধান সরবরাহ করবে। গতকাল মঙ্গলবার এ ধান দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেলিম রেজা ধান দেয়নি। এ ব্যাপারে সেলিম রেজার সাথে কথা হলে তিনি পরে ধান দেবেন বলে জানান।”

ওই কৃষকদের ধানের সাথে সেলিম রেজার ২৫ মন ধান রয়েছে বলেও ওই কর্মকর্তা স্বীকার করেন। আগেও সেলিম রেজা কৃষকের নামে ধান দিয়েছেন কি না ? এমন প্রশ্ন তিনি এড়িয়ে যান।

অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম রেজা বলেন,“এ ব্যাপারে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। রাজপাট ইউনিয়নে আমার শত্রু-মিত্র রয়েছে। তাই তারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। সোমবার রাতে ঘর ঘেরাও করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ব্যাপারে আমি খাদ্য গুদামে যাইনি।”

কাশিয়ানী থানার ওসি মো. আজিজুর রহমান বলেন,“স্থানীয়রা আমাকে ফোন দিলে আমি ফোর্স পাঠাই। ধান বস্তাজাতকারীরা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছানোর আগেই ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়।”