• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৪ দুপুর

হবিগঞ্জে রেল সেতুর স্লিপারে বাঁশ, বেশিরভাগ নাট হাওয়া

  • প্রকাশিত ০৮:২৯ রাত জুন ২৬, ২০১৯
রেল বাঁশ
হবিগঞ্জে রেল স্লিপারের সঙ্গে সংযুক্ত বাঁশ ঢাকা ট্রিবিউন

সেতুর স্লিপারের কাছে বাঁশ ও লোহা দিয়ে গাঁথনি দেওয়া হয়েছে। স্লিপারের জোড়ায় কোনো নাট নেই।

ঢাকা-সিলেট রেল লাইনের হবিগঞ্জ অংশের অধিকাংশ সেতুই ঝুঁকিপূর্ণ। অনেক জায়গায় সেতুর স্লিপারের সঙ্গে বাঁশ দিয়ে জোড়াতালি দেওয়ার কারণে মারাত্মক দুর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, বাঁশ সংযুক্ত থাকলেও ঝুঁকি নেই।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-সিলেট রেল লাইনের হবিগঞ্জের অংশের ৫২ কিলোমিটার রেল লাইনে রয়েছে ৮৪টি ছোট-বড় সেতু ও কালভার্ট। এগুলোর অধিকাংশই ঝুঁকিপূর্ণ এবং বেশ কয়েকটি সেতুর স্লিপারে বাঁশ সংযুক্ত থাকায় দুর্ঘটনার আশংকা অমূলক নয়। এছাড়া, বেশিরভাগ সেতুর নাট-বল্টু খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। অজান্তেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন এ রুটের যাত্রীরা। 

জেলার শায়েস্তাগঞ্জের কদমতলী বড়চর এলাকায় ৯৩ নম্বর বড় বিল সেতুতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এটির ৮০টি নাটের অবশিষ্ট মাত্র ৩৪ টি। স্লিপারের সঙ্গে পুরনো বাঁশ সংযুক্ত রয়েছে। ট্রেন চলাচলের সময় সেতুটি অস্বাভাবিকভাবে নড়তে শুরু করে এবং মাঝখানে জোড়া লাগানো স্লিপ ওঠানামা করে।

নাট খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেতুর স্লিপারের কাছে বাঁশ ও লোহা দিয়ে গাঁথনি দেওয়া হয়েছে। স্লিপারের জোড়ায় কোনো নাট নেই। সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন চললে গ্রাম থেকে লক্করঝক্কর শব্দ শোনা যায়।

শায়েস্তাগঞ্জ কলেজ শিক্ষার্থী হাসান শাহারিয়ার তারেক জানান, দূর থেকে সেতুটির নড়বড়ে অবস্থা বোঝার উপায় নেই। ৮০-৮৫ টি স্লিপার থাকলেও হাতে গোনা কয়েকটি নাট বল্টু রয়েছে। মাঝে মাঝে কর্মকর্তারা কাঠের স্লিপার দিয়ে ভেঙে যাওয়া স্লিপার আটকানোর চেষ্টা করেন, তবে সেগুলো বেশিদিন টেকে না। এছাড়া, সুতাং ও খোয়াই নদীর ওপর স্থাপিত সেতুর অবস্থাও নাজুক বলে জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য তাহির মিয়া জানান, এই সেতুর অবস্থা এতই নাজুক যে মানুষ চলাচল করতেই ভয় লাগে। আর ট্রেন আসলে তো আরও বেশি ভয় লাগে।

এই সেতুগুলোকেই ঝুঁকিপূর্ণ বলছেন স্থানীয়রা। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

তবে আখাউড়া রেল সেকশনের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রুহুল আক্তার খানের দাবি, স্লিপারের সঙ্গে বাঁশ লাগানোর ফলে স্লিপার শক্ত থাকে। পুরনো স্লিপারের গ্যাপ পুরণের জন্য বাঁশ দেয়া হয়েছে। এতে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই।

তিনি জানান, অনেক জায়গার ক্লিপ খোয়া যাচ্ছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেগুলো সংস্কার করা হয়। এছাড়া, নাট নষ্ট হয়ে গেলেও পুনঃস্থাপন করা হয়। এ ধরনের সেতুতে রেল চলাচলে ঝুঁকি নেই।