• শুক্রবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৩ রাত

সিলেটে কমেছে বায়ুদূষণ, গড়ে উঠেছে প্রাণীবান্ধব পরিবেশ

  • প্রকাশিত ০৮:০৭ রাত জুন ২৮, ২০১৯
শ্রীমঙ্গল চা বাগান
শ্রীমঙ্গল চা বাগান সৈয়দ জাকির হোসাইন/ঢাকা ট্রিবিউন

নগরীতে পরিবেশ দূষণের বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ফলে সিলেটের পরিবেশে গুণগত পরিবর্তন এসেছে।

জলবায়ু সহিষ্ণু বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রতিবেশ ও পরিবেশের ঝুঁকি মোকাবেলায় নানামুখী উদ্যোগের ফলে সিলেটে বায়ুদূষণের মাত্রা কমেছে। একইসঙ্গে জীববৈচিত্র্যের জন্য সেখানে গড়ে উঠছে প্রাণীবান্ধব পরিবেশ।

ক্লিন এয়ার এ্যান্ড সাস্টেইনেবল এনভায়রনমেন্ট প্রজেক্ট থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সিলেট শহর ও আশপাশে বিগত ২ বছরে বায়ুদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

ক্লিন এয়ার এ্যান্ড সাস্টেইনেবল এনভায়রনমেন্ট প্রজেক্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে সিলেট নগরীতে বাতাসে বৃহত্তর বস্তুকণা সৃষ্ট (এমপি১০) বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল ২৫৭.৪, যা ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে ১৫০.৩-এ এসে দাঁড়ায়। একইভাবে বাতাসে ছোট্ট বস্তুকণার পরিমাণ (পিএম২.৫) ২০১৭ সালে ছিল ১৭৭.৩ এবং ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অর্ধেকের বেশি হ্রাস পেয়ে ৮৩.৬ এ এসে পৌঁছেছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের উদ্যোগে বিগত ১০ বছরে সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পরিবেশ উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, ‘‘ছড়া ও খাল উদ্ধার, প্রতিদিন বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ এবং বিশেষ করে বিষাক্ত মেডিকেল বর্জ্যের ক্ষতি থেকে নগরবাসীকে রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে সিলেট হয়ে উঠছে গ্রিন ও ক্লিন সিটি।’’

পরিবেশ সুরক্ষায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিগত ১০ বছরে অন্তত ৪শ’ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। নূর আজিজুর রহমান বলেন, সিলেট নগরীতে ১৭টি জলাশয় বা পুকুর এখনও টিকে আছে। এগুলোকে রিটেইনিং ওয়াল দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, পরিবেশ সুরক্ষায় গাছ লাগানো ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমে গুরুত্ব দিচ্ছে সিটি কর্পোরেশন। আগামী অর্থবছরে নগরীতে পাঁচ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছর স্কুল-কলেজগুলোতে সেমিনার, র‌্যালি আয়োজনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে নানামুখী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, নগরীতে পরিবেশ দূষণের বেশ কিছু কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের ফলে সিলেটের পরিবেশে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। সরকারের আর্থিক সহায়তা ও নগরবাসীর আন্তরিক সহযোগিতায় এটা সম্ভব হচ্ছে। 

গ্রিন ও ক্লিন সিটি গড়তে তিনি ছড়া ও খালের প্রবাহ নিশ্চিতকরণে উদ্ধার অভিযান, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেন।

সিলেট বনবিভাগ জানায়, সামাজিক বনায়ন, সচেতনতা কর্মসূচির পাশাপাশি সিলেটে প্রাণী সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সিলেটের মানুষ এখন আগের চেয়ে বেশি প্রাণীবান্ধব।



 
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। ছবি: সৈয়দ জাকির হোসাইন/ঢাকা ট্রিবিউন

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আরেফিন খান জানান, সিলেটের একজন ফটোগ্রাফার হবিগঞ্জের রেমাকালেঙ্গা বনে বিলুপ্তপ্রায় কয়েকটি মালয়ান বড় কাঠবিড়ালী (বৈজ্ঞানিক নাম- রাটুফা বিকালার) দেখতে পান। কয়েক বছর আগেও যার সংখ্যা ছিল হাতেগোনা।

সম্প্রতি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া চা বাগান এলাকায় বাঘ ধরার জন্য খেওড় (বাঘ ধরার কৌশল) স্থাপন করা হয়। এ খবর জানার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে বনবিভাগের কর্মকর্তারা সেখানে যান এবং উৎসুক জনগণকে যন্ত্রপাতিসহ সেখান থেকে সরিয়ে দেন।

সিলেটের উপ-বন সংরক্ষক এসএম সাজ্জাদ হোসেন জানান, সিলেটে একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। কোথাও পাখি শিকার, পশুপাখি আক্রান্ত হওয়ার খবর পেলেই বনবিভাগের কর্মীরা ছুটে যান, কখনো পরিবেশ বিষয়ক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে উদ্ধার করে নিয়ে এসে নিজস্ব সংরক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হয়। প্রাণীগুলো সুস্থ হয়ে উঠলে এগুলো যথাযথ স্থানে অবমুক্ত করা হয়।

বন সংরক্ষক আরো বলেন, সিলেটে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নানা প্রজাতির প্রাণী রয়েছে, তারা কোনভাবে যেনো ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে বিষয়ে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। তিনি রাতারগুল বনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বন। পর্যটকদের ভিড়ে রাতারগুলের বন্যপ্রাণী যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেজন্য পর্যটকদের প্রবেশ সীমিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।