• বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:১৭ সকাল

মুরাদনগরে নড়বড়ে তিন সেতু, লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগ

  • প্রকাশিত ০৯:১১ রাত জুলাই ১, ২০১৯
কুমিল্লা সেতু
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল-মেটংঘর সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ঢাকা ট্রিবিউন

সেতুগুলোর অবস্থা নাজুক হওয়ায় রাতের বেলায় কোনো চালক যাত্রী পরিবহন করেন না।

শ্রীকাইল-মেটংঘর সড়কটি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ব্যস্ততম একটি সড়ক। এ সড়কে তিনটি সেতুর অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ এলাকার লক্ষাধিক মানুষকে প্রতিনিয়ত সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এরমধ্যে ঘোড়াশাল এলাকার সেতুতে বড় ধরনের একটি গর্ত হওয়ায় সেটি এখন পরিণত হয়েছে মরণ ফাঁদে। ফলে ইতোমধ্যে ঘটেছে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা।

সূত্র জানায়, প্রতিদিন শ্রীকাইল-মেটংঘর-কোম্পানীগঞ্জ সড়ক ব্যবহার করে রাজধানী ঢাকা, কুমিল্লা, কোম্পানীগঞ্জ, মুরাদনগর ও বাঙ্গরা থানায় যাওয়া-আসা করে হাজার হাজার মানুষ। পাশাপাশি শ্রীকাইল বাজার, বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শ্রীকাইল নতুন গ্যাস ফিল্ডে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।

মেটংঘর থেকে শ্রীকাইল যেতে ঘোড়াশাল এলাকায় কয়েক বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে বড় একটি সেতু। সেতুটিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি বড় গর্ত। বছর পাঁচেক আগে রাতের বেলায় মোটরসাইকেলে চড়ে টহল দেওয়ার সময় এর ফাটল দিয়ে নিচে পড়ে মারা যান এক পুলিশ কর্মকর্তা। বর্তমানে এর পাশ দিয়ে বিকল্প সড়ক দিয়ে এখন যান চলাচল করছে। তবে এর সংযোগ সড়কটি পাকা না হওয়ায় সেখানেও শেষ নেই দুর্ভোগের।

এছাড়া, ঘোড়াশাল গ্রামে আরও একটি ব্রেইলি সেতু ভেঙে পড়ার উপক্রম। পুরনো এই সেতুর স্টিলের পাটাতনে একাধিক ছিদ্র সৃষ্টি হয়েছে। প্রায়ই ছোট যানবাহনের চাকা আটকে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সোনাকান্দা কবরস্থান সংলগ্ন সেতুটিরও কয়েকটি জায়গায় ঢালাই ছুটে বড় গর্ত দেখা দিয়েছে। মাঝের অংশ ধসে পড়ায় যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

ঘোড়াশাল এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান জানান, ঘোড়াশাল এলাকার ব্রিজসহ শ্রীকাইল-মেটংঘর সড়কের অন্য দুটি সেতুরও অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে রাতের বেলায় এগুলোর ওপর দুর্ঘটনার ঘটছে। সেতুগুলো পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মুরাদনগরের সিএনজি চালক আবুল খায়ের জানান, এ সড়কে ঢুকলে দুর্ভোগে পড়তে হয়। সেতুগুলোর অবস্থা নাজুক হওয়ায় রাতে কোনো চালক এই সড়কে যাত্রী পরিবহন করেন না।

এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. আহাদ উল্লাহ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, নতুন করে সেতু র্নিমাণের জন্য প্রস্তাবনা তৈরি হচ্ছে। প্রস্তাবগুলো অনুমোদন হলেই নতুন সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।