• সোমবার, অক্টোবর ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৮ দুপুর

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধায় স্থিতাবস্থার আদেশ স্থগিত

  • প্রকাশিত ০৯:০০ রাত জুলাই ২, ২০১৯
সুপ্রিম কোর্ট
সুপ্রিম কোর্ট। ফাইল ছবি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২ জুলাই) চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান এ স্থগিতাদেশ জারি করেন

ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা নীতিমালায় স্থিতাবস্থা রেখে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতির আদালত।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে করা এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২ জুলাই) চেম্বার বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান এ স্থগিতাদেশ জারি করেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এবং অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ রিটকারী পক্ষে শুনানি করেন।

মনজিল মোরসেদ জানান, চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের আদেশ ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করেছেন এবং একই সাথে ওই দিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আবেদনের ওপর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

১৬ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, ঋণখেলাপিরা মাত্র দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়েই ঋণ পুনঃতফসিল করতে পারবেন। পুনঃতফসিল হওয়া ঋণ পরিশোধে তারা সময় পাবেন টানা ১০ বছর। এ ক্ষেত্রে প্রথম বছর কোনো কিস্তি দিতে হবে না।

পরে ঋণখেলাপিদের নিয়ে করা রিট আবেদনকারী পক্ষের এক সম্পূরক আবেদনে ২১ মে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিমালার ওপর এক মাসের জন্য স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়। এরপর ২৪ মে ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতার ওপর স্থিতাবস্থার আদেশ আরও দুই মাসের জন্য বৃদ্ধি করে হাইকোর্ট। এ আদেশ স্থগিত চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন জানায়।

ব্যাংকিং খাতে অর্থ আত্মসাৎ, ঋণ অনুমোদনে অনিয়ম, প্রাইভেট ও পাবলিক ব্যাংকগুলোতে ব্যাংকঋণের ওপর সুদ মওকুফের বিষয়ে তদন্ত এবং তা বন্ধে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য কমিশন গঠন করার অনুরোধ জানিয়ে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইআরপিবি) গত জানুয়ারিতে রিট করে।

রিটের শুনানি নিয়ে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ ১৩ ফেব্রুয়ারি এক আদেশে ঋণখেলাপির তালিকা দাখিলের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করে।

পরে ১৬ মে হাইকোর্টের এ বেঞ্চ গত ২০ বছরে কোটি টাকার ওপরে ঋণের খেলাপিদের তালিকা, কী পরিমাণ ঋণের সুদ মওকুফ করা হয়েছে, ঋণের সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে যে অনিয়ম চলছে, তা বন্ধে কী কী ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, তার তথ্য ২৪ জুনের মধ্যে দাখিল করতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেন।

এ অবস্থায় ওই দিনই (১৬ মে) বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণখেলাপিদের বিশেষ সুবিধা দিয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে।