• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৭ রাত

'নুসরাতকে কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে যেতে দেখি’

  • প্রকাশিত ১০:৩৭ রাত জুলাই ২, ২০১৯
নুসরাত জাহান রাফি
নুসরাত জাহান রাফি। ছবি: সংগৃহীত

সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অফিস সহকারী নুরুল আমিন সাক্ষ্যপ্রদানকালে একথা জানান

ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় চতুর্থদিনে বিচারিক আদালতে আংশিক সাক্ষ্য দিয়েছেন ৪ নম্বর সাক্ষী মাদ্রাসার অফিস সহকারী নুরুল আমিন। মঙ্গলবার (২ জুলাই) বিকাল তিনটায় থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত তিনি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে এই সাক্ষ্যপ্রদান করেন। বিচারিক আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ এসব তথ্য জানিয়েছেন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহজাহান সাজু বলেন, নুরুল আমিন সাক্ষ্যগ্রহণকালে আদালতকে জানান, অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌল্লাহ নির্দেশে ২৭ মার্চ সকালে ক্লাস থেকে নুসরাতকে অধ্যক্ষের কক্ষে যেতে বলেছিলাম। নুসরাত সেই সময় ক্লাসে বসে সহপাঠীদের সঙ্গে গল্প করছিল। নুসরাত তার বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও নাসরিন সুলতানা ফূর্তিকে নিয়ে সেই সময় অধ্যক্ষের কক্ষে যায়। অধ্যক্ষ সিরাজ নিশাত ও ফূর্তিকে কক্ষের বাহির বের করে দেন। এর কয়েক মিনিট পর অধ্যক্ষ কক্ষ থেকে নুসরাতকে কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে বাড়ি চলে যেতে দেখি। পরে দেখি নুসরাতকে সঙ্গে নিয়ে তার মা ছেলে রাশেদুল হাসান রায়হান ও স্থানীয় কাউন্সিলর ইয়াসিনকে নিয়ে অধ্যক্ষের কক্ষে যান। এসময় অধ্যক্ষ সিরাজ উল্টো তাকে গালমন্দ করেন এবং নুসরাতের চরিত্রহননের অপচেষ্টা করেন। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে অধ্যক্ষকের ফোন করলে পুলিশ মাদ্রাসায় আসেন। যদিও পরে নুসরাতের মা থানায় মামলা করলে অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে নিয়ে যেতে দেখি।

আদালত বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত নুরুল আমিনের সাক্ষ্য নিয়ে মুলতবি করেন।  আগামীকাল (বুধবারসকাল এগারটা এই সাক্ষীর অবশিষ্ট স্বাক্ষ্য গ্রহন ও জেরা গ্রহণেরর জন্য দিন ধার্য করেন বিচারক। 

এর আগে একই আদালতে সকাল ১১টা থেকে তিনটা পর্যন্ত সাক্ষী নাসরিন সুলতানা ফূর্তির জেরা সম্পন্ন করেছে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। 

গত ২৭  ৩০ জুন নুসরাত হত্যা মামলার বাদী  নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত  মামলার বিচার কাজ শুরু হয়। ১ জুলাইনুসরাতের সহপাঠী নিশাত সুলতানার সাক্ষ্য ও জেরা সম্পন্ন করেন। 

গত ২৯ মে, আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার চার্জশিট দাখিল করে। ৩০ মে, মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে স্থানান্তর হয়। ১০ জুন মামলাটি আমলে নিয়ে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত। 

এ মামলায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা, নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, উম্মে সুলতানা পপি, কামরুন নাহার মনি, জাবেদ হোসেন, আবদুর রহিম ওরফে শরীফ, হাফেজ আবদুল কাদের ও জোবায়ের আহমেদ, এমরান হোসেন মামুন, ইফতেখার হোসেন রানা ও মহিউদ্দিন শাকিল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। 

প্রসঙ্গত, সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে গত ৬ এপ্রিল গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। ১০ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি পিবিআইতে স্থানান্তর করা হয়। পুলিশ ও পিবিআই এই মামলায় ২১ জনকে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে ১২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।