• সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:১৪ দুপুর

গওহর রিজভী: রোহিঙ্গা সংকট দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি

  • প্রকাশিত ০৮:২১ রাত জুলাই ৩, ২০১৯
রোহিঙ্গা
রোহিঙ্গা শরণার্থী। ছবি: সৈয়দ জাকির হোসেন/ঢাকা ট্রিবিউন

‘মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এ লক্ষ্যে তাদের সংবিধান পরিবর্তন করেছে। তারা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বহীন করেছে। রাতারাতিই এটা হয়নি। তবে আমি বলছি ঠাণ্ডা মাথায় গণহত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং এভাবেই মিয়ানমারের সংখ্যালঘুরা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।’

রোহিঙ্গা সংকট দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভবিষ্যতে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখা দেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড.গওহর রিজভী।

৩ জুলাই, বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) মিলনায়তনে এক সেমিনারের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিস ‘আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতা’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।

গওহর বলেন, “দীর্ঘমেয়াদী এই রোহিঙ্গা সংকট এখন শুধু বাংলাদেশের সংকট হিসেবে দেখা দেয়নি বরং এটি এখন বৈশ্বিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।”

তিনি বলেন, “মিয়ানমারে কী হচ্ছে? সেখানে যা হচ্ছে বিশ্বের সব দেশেরই তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।”

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, “নিছক স্থানীয়, জাতিগত বা ধর্মীয় সংঘাতের কারণে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা আসেনি। এটি সুপরিকল্পিত গণহত্যা। মিয়ানমার যা চায় এটা তারই বহিঃপ্রকাশ। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দেশটিকে চীনা বংশদ্ভুত বৌদ্ধদের মনে করে।”

ড. রিজভী আরো বলেন, তারা রোহিঙ্গাদের মুসলিমের বেশি কিছু মনে করেন না।

তিনি বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সংখ্যালঘু মুসলিমদের ওই ভূখণ্ড থেকে উচ্ছেদ করার জন্য কয়েক দশক ধরে অনিয়মতান্ত্রিক ও সুপরিকল্পিতাভাবে কাজ করেছে।

গওহর বলেন, “মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এলক্ষ্যে তাদের সংবিধান পরিবর্তন করেছে। তারা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বহীন করেছে। রাতারাতিই এটি হয়নি। তবে আমি বলছি ঠাণ্ডা মাথায় গণহত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং এভাবেই মিয়ানমারের সংখ্যালঘুরা দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।”

রিজভী বলেন, “হ্যাঁ, রোহিঙ্গা সংকট আজ বাংলাদেশের একার সমস্যা তবে, আগামীকাল এটা বৈশ্বিক সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে।”

তিনি আরো বলেন, “বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গারা দুই দেশের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।”

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, “আমরা ইতোমধ্যেই লক্ষ্য করেছি যে এই অঞ্চলে অস্ত্র আমদানি করা হচ্ছে। যদি আমরা সতর্ক না হই এবং আন্তর্জাতিকভাবে একসাথে কাজ না করি তবে সংকটটি এই অঞ্চলে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতার কারণ হিসেবে দেখা দেবে।”

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ব্যাপারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। দু’টি দেশই তাদের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ককে আরো জোরদার করতে চায়।

আঞ্চলিক বাণিজ্যিক বিষয়েল প্রসঙ্গ উল্লেখ করে গওহর বলেন, বাণিজ্য অর্থনীতির একটি সূচকমাত্র কিন্তু দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সংশ্লিষ্ট আরো অনেক ইস্যু রয়েছে।

বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ সব সময়ই ভারতকে উৎসাহিত করে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ অবশ্যই ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের পদক্ষেপে অংশ নিতে চায়।

আলোচনায় অংশ নিয়ে ভারতের ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড এনালাইসিস (ইডসা)’র মহাপরিচালক অ্যাম্বাসেডর সুজন আর চিনয় বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অন্যান্য অনেক দেশের জন্য রোল মডেল।

ভারতের অনেক কোম্পানি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বিস-এর চেয়ারম্যান অ্যাম্বাসেডর মুন্সি ফাইজ আহমেদের সভাপতিত্বে সেমিনারে উদ্বোধনী অধিবেশনে অন্যান্যের মাঝে এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আব্দুর রহমানও বক্তব্য দেন।