• রবিবার, জুলাই ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৩৫ দুপুর

প্রধানমন্ত্রী: সবার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ

  • প্রকাশিত ১০:২৩ রাত জুলাই ৩, ২০১৯
চীন
চীনে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সরকারি সফর উপলক্ষে বেইজিংয়ের বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ফোকাস বাংলা

চীন গত ৭০ বছরে একটি গরিব দেশ থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের চীনের ইতিহাস ও উন্নয়ন থেকে অনেক কিছু শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।

সবার সাথে বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কারও সাথে বৈরী সম্পর্ক না থাকায় বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ পাচ্ছে।

তিনি বলেন, “সবার সাথে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেয়া পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণের ফলে এখন কারও সাথে বাংলাদেশের বৈরী সম্পর্ক নেই। যেকারণে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে ও বিনিয়োগ পাচ্ছে।”

৩ জু্লাই, বুধবার বেইজিংয়ের লিজেনদালি হোটেলে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চীন ও ভারতের সাথে বাংলাদেশের যুগপৎ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

চীনে প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সরকারি সফর উপলক্ষে বেইজিংয়ের বাংলাদেশ দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

শেখ হাসিনা বলেন, যদি স্থিতিশীল সরকার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকে তাহলে তা বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পারে। তিনি জানান, তার সরকার দেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করছে।

চীন গত ৭০ বছরে একটি গরিব দেশ থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের চীনের ইতিহাস ও উন্নয়ন থেকে অনেক কিছু শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, চীন এখনো অনেক বাধার মুখে রয়েছে। কারণ অনেকে চায় না এঅঞ্চল বা এশিয়ার একটি দেশ বিশ্বের সর্ববৃহৎ অর্থনীতি হোক।

বঙ্গবন্ধু একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে মাত্র সাড়ে তিন বছরে গড়ে তোলার মাধ্যমে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে এগিয়ে নিয়েছিলেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দেশের উন্নয়ন যাত্রাকে ব্যাহত করে দিয়েছিল।

দেশের গত এক দশকের উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, এখন দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি ৮.১০ শতাংশ এবং তার সরকার ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট পাস করেছে।

স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সমালোচনা করে প্রধানামন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি এবং দেশকে অচল করে রেখেছিল তারা সরকারের কোনো ভালো জিনিস খুঁজে পায় না।

তিনি বলেন, দেশে এখনও একটি শ্রেণি রয়েছে যারা অন্ধ এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ তাদের পছন্দ না। কারণ তাদের উত্থান গণতান্ত্রিক পরিবেশে নয়, সামরিক বা জরুরি বা অবৈধ শাসনামলে। ‘তারা সর্বদা নিজেদের বিক্রির জন্য প্রস্তুত থাকে,’ বলেন তিনি।

এই শ্রেণির জনগণ ২৯ বছর ক্ষমতায় ছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “তারা ২৯ বছরে যা করেনি আমরা ১০ বছরে তা করেছি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে এবং দেশের উন্নয়ন বাজেটের ৯০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়ন হয়। দেশের ও বাজেটে বিদেশি অনুদান মাত্র ০.৮ শতাংশ,’ যোগ করেন তিনি।

শেখ হাসিনা প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. ফজলে করিম। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার শামসুল হক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

দালিয়ানে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনে যোগদান শেষে বুধবার সকালে বেইজিং পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ১ জুলাই চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন শেখ হাসিনা এবং ৬ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।