• মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৩ দুপুর

বগুড়ায় পুলিশের ফাঁদে ধরা দুই পুলিশ!

  • প্রকাশিত ০১:৩৫ দুপুর জুলাই ৪, ২০১৯
পুলিশ
প্রতীকী ছবি

পুলিশের কোনো কুচক্রি মহল তাকে ও পুলিশ সুপারকে বিতর্কিত করতে ষড়যন্ত্র করছেন। এমন অপরাধ করলে তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হোক। তিনি বলেন, ‘মিথ্যা অপবাদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করব।’

পুলিশ সদর দফতরের ফোনে আড়িপাতা ফাঁদে ধরা পড়ে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার) হয়েছেন বগুড়ার দুই এএসআই।  বগুড়া পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষ লেনদেন বন্ধ করতে তাদের মোবাইল ফোনে আড়িপাতা হয়েছিল। 

৩ জুলাই, বুধবার অভিযুক্তদের বগুড়া থেকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে পাঠানো হয়েছে।

ঘুষ লেনদেনে অভিযুক্ত দুই পুলিশ সদস্য হলেন বগুড়া ডিবি পুলিশের এএসআ ই শওকত আলম ও রিজার্ভ অফিসের এএসআই ফারুক হোসেন।

বগুড়া পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, কনস্টেবল নিয়োগে শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর নির্দেশ ছিল। তারপরও নিয়োগে ঘুষ লেনদেনে জড়িতদের ধরতে পুলিশ সদস্যদের মোবাইল ফোনে আড়ি পাতা হয়েছিল। নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের সুর্নিদিষ্ট প্রমাণ মেলে বগুড়ার দুই এএসআই শতকত আলম ও ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। ঘটনায় পুলিশ সদর দফতার থেকে তাদের স্ট্যান্ড রিলিজ করতে বগুড়ার পুলিশ সুপারকে চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবারই তাদের ছাড়পত্র দিয়ে চট্টগ্রামে রেঞ্জে পাঠানো হয়েছে।

বগুড়া ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর আসলাম আলী জানান, দুই এএসআইকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে। তবে তিনি এর কারণ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেননি। 

বগুড়ার সদ্য পদোন্নতি পাওয়া পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মন্ডল দুই এএসআইকে স্ট্যান্ড রিলিজ করে চট্টগ্রাম রেঞ্জে পাঠানোর সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সদর দফতর সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণের ভিত্তিতেই ওই দু’জনের বিরুদ্ধে শান্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে।

স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া ডিবি পুলিশের এএসআই শওকত আলম বৃহস্পতিবার দুপুরে জানান, তিনি জয়পুরহাটে অভিযানে ছিলেন। এছাড়া কনস্টেবল নিয়োগে ঘুষের ব্যাপারে ফোনে কারো সাথে কথা বলেননি। পুলিশের কোনো কুচক্রি মহল তাকে ও পুলিশ সুপারকে বিতর্কিত করতে ষড়যন্ত্র করছেন। এমন অপরাধ করলে তাকে চাকরি থেকে ছাঁটাই করা হোক। তিনি বলেন, “মিথ্যা অপবাদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করব।”

বগুড়া পুলিশের সূত্র জানায়, এ বছর সাধারণ কোটায় ৫৪ জন ও বিশেষ কোটায় ১৮৫ জন কনস্টেবল নিয়োগ করা হবে। গত বুধবার প্রার্থী বাছাই করা হয়েছে। ৪ জুলাই,বৃহস্পতিবার লিখিত অনুষ্ঠিত পরীক্ষা হচ্ছে। এই নিয়োগ পরীক্ষায় কোনো অনিয়ম না করতে সদর দফতর থেকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা ১০০ টাকায় কনস্টেবল নিয়োগের ঘোষণা দেন। এ ব্যাপারে থানায় থানায় মাইকিং, পোস্টারিং, লিফলেট বিতরণ ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারণা চালানো হয়েছে।

এদিকে বগুড়ায় পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ডিবি পুলিশ এর আগে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের কর্মচারী আনোয়ার হোসেন, গাইবান্ধার পলাশবাড়ি উপজেলার আনসার সদস্য জুলহাস উদ্দিন ও আহসানুল কবির নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার ও সংশ্লিষ্ট থানায় তাদের নামে পৃথক মামলাও হয়েছে।