• বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪০ রাত

পরীক্ষার হলে ছাত্রীকে উত্যক্ত করলেন শিক্ষক

  • প্রকাশিত ০১:০৬ দুপুর জুলাই ৫, ২০১৯
অভিযুক্ত শিক্ষক
অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক খায়রুজ্জামান বাদল। ঢাকা ট্রিবিউন

অভিযুক্ত শিক্ষকের দাবি, তিনি ওই ছাত্রীর সাথে রসিকতা করেছেন মাত্র

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কামারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক খায়রুজ্জামান বাদলের (৫৫) বিরুদ্ধে পরীক্ষার হলে দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার সকালে বর্ষ মধ্য পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী জানায়, বোর্ডের ওপর খাতা রেখে পরীক্ষা দিয়ে সে অভ্যস্ত। বুধবারও সে একইভাবে পরীক্ষার খাতায় লিখছিল। এসময় সহকারি শিক্ষক খায়রুজ্জামান বাদল তার কাছে আসেন এবং ওই বোর্ডে কার্টুনের ছবি থাকায় আপত্তি তোলেন। পরবর্তীতে ওই ছাত্রীর বোর্ড কেড়ে নিয়ে তিনি সেটার উপর থুতু ছিটিয়ে দেন এবং তার উপর খাতা রেখে লিখতে বলেন। তবে, এতে ওই ছাত্রী রাজি না হলে ওই শিক্ষক নিজের হাতে থুতু ছিটিয়ে ওই ছাত্রীর শরীর স্পর্শ করেন। এ সময় মনিরা বেগম নামে এক শিক্ষিকা এ দৃশ্য দেখে বিরক্ত প্রকাশ করেন। তিনি এ ব্যাপারে অভিযোগ করতে ওই ছাত্রীকে পরামর্শ দেন।

এর প্রেক্ষিতে ওই ছাত্রী এ বিষয়ে অভিযোগ করলে প্রধান শিক্ষক আলাউদ্দিন ঘটনাটি চাপা দিতে বৃহস্পতিবার স্কুলে অন্য শিক্ষকদের নিয়ে বিচার ডাকেন। সেখানে অভিযুক্ত শিক্ষক খায়রুজ্জামান বাদল ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার মায়ের কাছে অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চান। তখন ছাত্রীর পরিবার নিজেদের সম্মান রক্ষায় তাকে ক্ষমা করে দেন।

এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "দাদার বয়সী শিক্ষক বাদল অনেক বড় অপরাধ করেছেন। মেয়ের ভবিষ্যত চিন্তা করে ও শিক্ষক আমাদের পা ধরে ক্ষমা ভিক্ষা ও ভবিষ্যতে এমন অপরাধ করার অঙ্গীকার করায় তাকে ক্ষমা করা হয়েছে।"

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক খায়রুজ্জামান বাদল দাবি করেছেন তিনি নিরপরাধ। ঘটনা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, "আমি শুধু ওই ছাত্রীর বোর্ডে থুথু দেওয়ার অভিনয় করেছি। আর তার মাথায় হাত দিয়ে ভালোভাবে লেখাপড়ার করার পরামর্শ দিয়েছি। এছাড়া ওই ছাত্রীর সাথে একটু মশকরা করেছি।"

তবে, স্থানীয়রা জানান, এই প্রথম নয়; এর আগেও অনেকবার ছাত্রীদের উত্যক্ত করার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক বাদলের বিরুদ্ধে। তিনি প্রায়ই ছাত্রীদের সাথে অশালীন আচরণ এবং তাদেরকে অশ্লীল কথা বলে থাকেন।

এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে শিক্ষক বাদল দাবি করেন, তিনি আর কোনো ছাত্রীর সাথে কখনও অশালীন ব্যবহার করেননি।

এদিকে ঘটনা প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন জানান, "এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি ছিলো। বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে এ বিষয়ে বিচার করে আপোষ করা হয়েছে।"

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা: ফুয়ারা খাতুন এ প্রসঙ্গে ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "অভিযুক্ত শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন, সে কারণে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"