• শুক্রবার, জুলাই ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫২ রাত

যমুনা নদীর ভাঙনে গৃহহীন হচ্ছে পূর্বপাড়ের মানুষ

  • প্রকাশিত ০৪:০২ বিকেল জুলাই ৫, ২০১৯
নদী ভাঙন
টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে গৃহহীন হচ্ছে নদীর পূর্ব পাড়ের মানুষ। ঢাকা ট্রিবিউন

তিনশতাধিক ঘরবাড়ি যমুনার ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে

টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর তীব্র ভাঙনে গৃহহীন হচ্ছে নদীর পূর্ব পাড়ের মানুষ। নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথেই শতাধিক বড়-ছোট পাঁকা ও আধাপাঁকা স্থাপনাসহ ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আরো তিনশতাধিক ঘরবাড়ি যমুনার ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী, গাবসারা ও অর্জুনা ইউনিয়নের এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ি, কষ্টাপাড়া ও ভালকুটিয়া এলাকায় কয়েকদিনে শতাধিক ঘর-বাড়ি যমুনা গর্বে চলে গেছে।

জানা যায়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের মধ্যে চারটি ইউনিয়ন যমুনা নদী দিয়ে ঘেরা। ২০১১ সালে গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়িসহ কয়েকটি গ্রামে তীব্র ভাঙন শুরু হয়। এই ভাঙন এখনও অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন রোধে স্থানীয়রা একাধিকবার মানববন্ধন, স্মারকলিপিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন।

তবে, নানা কর্মসূচি পালিত হলেও এখন পর্যন্ত নদী ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই উপজেলার চারটি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ভাঙন কবলের শিকার। গত কয়েক বছরে যমুনা নদীর ভাঙনে বেশ কয়েকটি গ্রাম মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। এছাড়া প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকায় আঘাত আনছে প্রমত্তা যমুনা। এতে গৃহহীন হচ্ছে শতশত পরিবার।

এদিকে যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙন ক্রমশ পূর্বদিকে ধাপিত হচ্ছে। অন্যদিকে মূল নদীতে জেগে উঠছে বিশাল বিশাল চর। স্থানীয়দের অভিযোগ, অব্যাহতভাবে যমুনা নদী হতে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। এতে নদী কয়েকটি চ্যানেলে রুপ নিচ্ছে। 

খানুরবাড়ি গ্রামের আল মামুন বলেন, "ত্রিশ বছরের অধিক সময় ধরে এখানে বসবাস করছি। গত বছর বাড়ির কিছুটা অংশ ভেঙে যায়। এবছরও বাড়ির অর্ধেক যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একসময় বাড়ি হতে নদীর দূরত্ব ছিল প্রায় ৩ কিলোমিটার। অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে এমন ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।"

ভাঙন প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঝোটন চন্দ বলেন, "উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে যমুনা নদী ভাঙনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। অর্জুনা ইউনিয়নের কুঠিবয়ড়া এলাকায় গাইড বাঁধের কাজ শুরু হয়েছে।"

এব্যাপারে টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "যমুনা নদীতে ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙনের বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ভাঙন এলাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরেজমিন পরিদর্শন করবেন। এরপর ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"