• বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:২৫ বিকেল

যান চলাচলের জন্যে খুলে দেয়া হয়েছে শাহবাজপুর দ্বিতীয় তিতাস সেতু

  • প্রকাশিত ১২:২১ দুপুর জুলাই ৭, ২০১৯
শাহবাজপুর দ্বিতীয় তিতাস সেতু
যান চলাচলের জন্যে খুলে দেয়া হয়েছে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুর দ্বিতীয় তিতাস সেতু।ঢাকা ট্রিবিউন

‘নতুন সেতুটি খুলে দেয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি হয়েছি। ঢাকা থেকে খুব সহজে হবিগঞ্জ ও সিলেটে পৌঁছাতে পারবো’

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুর দ্বিতীয় তিতাস সেতু যানচলাচলের জন্যে খুলে দেয়া হয়েছে। 

শনিবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের পক্ষ থেকে সেতুটি যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার কথা জানান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন। এঘটনায় চালক ও যাত্রীরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

বাস যাত্রী লিটন দাস তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, “নতুন সেতুটি খুলে দেয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি হয়েছি। ঢাকা থেকে খুব সহজে হবিগঞ্জ ও সিলেটে পৌঁছাতে পারবো।”

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আমিনুল হক নামে এক কর্মকর্তা জানান, “নতুন সেতুটি চালু হওয়ায় আমরা বেশ খুশি হয়েছি আমাদের শ্রম কর্মঘণ্টা বাঁচবে।”

লরি চালক আবুল খায়ের বলেন, “আগের সেতুতে উঠলে বুক কাঁপতো কখন যেন ভেঙ্গে পড়ে। এখন নতুন সেতু চালু হওয়ায় সেই ভয় কেটে গেছে। তিনি জানান, আরো আগে সেতুটি করা হলে জনগণ ভোগান্তির শিকার হতো না “ 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৬৩ সালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৪৬ বছরের অধিক সেতুটির বয়স হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এরআগে ১৮ জুন বিকেলে সেতুটির পূর্বাংশের একটি রেলিং ধসে তিতাস নদীতে পড়ে। এরপর থেকে সেতুটির উপর দিয়ে মাঝারি ও ভারী সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে বিকল্প পথে সরাইল-নাসিরনগর ও হবিগঞ্জের লাখাই সড়ক হয়ে যানবাহন চলাচল করে। 

প্রসঙ্গত, ২৪ জুন ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি মেরামত করে অপর একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করে আবারো সেটি খুলে দেয়া হয়। এদিকে প্রথম সেতুর পূর্বপাশে তিতাস দ্বিতীয় সেতুটির ৮২ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর থেকে নির্মাণকাজ চলছিল ধীরগতিতে। পরে প্রথম সেতুটি বিকল হওয়ার পর নবনির্মিত সেতুটির অবশিষ্টকাজে গতি আনা হয়। ”

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন বলেন, “বর্তমান সেতুর ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করেই দ্বিতীয় সেতুটি যান চলাচলের জন্যে খুলে দেয়া হয়। সেতুটি নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা।”

তিনি আরো জানান, “সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ১০ জুলাই। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো। নির্ধারিত ৬ মাস অতিক্রম করার পর  ৩ জুলাই সেতুটি খুলে দেয়ার কথা থাকলেও কাজ শেষ না হওয়ায় সেটি হয়ে উঠেনি। পরে আজ সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সেতুটি খুলে দেয়া হয়।”