• সোমবার, আগস্ট ২৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৩ সকাল

ভুল ইনজেকশনের দেড়মাস পরও জ্ঞান ফেরেনি সেই ছাত্রীর

  • প্রকাশিত ০১:২৫ দুপুর জুলাই ৯, ২০১৯
মরিয়ম সুলতানা মুন্নি
গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মরিয়ম সুলতানা মুন্নির জ্ঞান দেড়মাসেও ফেরেনি। ছবি : ঢাকা ট্রিবিউন

মুন্নির বড় ভাই হাসিবুল রুবেল বলেন, ‘এখনও আইসিইউতে অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছে মুন্নি।

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থী মরিয়ম সুলতানা মুন্নির জ্ঞান দেড়মাসেও ফেরেনি। ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

গত ২০ মে পিত্তথলিতে পাথর নিয়ে মরিয়ম গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি হন। পরেরদিন ২১ মে তার অস্ত্রোপচার করার কথা ছিলো। এদিন সকালে ওই বিভাগের নার্স শাহানাজ পারভীন 'ভুল করে' তাকে চেতনানাশক ইনজেকশন দেন। ভুল ইনজেকশন পুশ করলে অজ্ঞান হয়ে পড়েন মরিয়ম। 

গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপতালের চিকিৎসকরা তখনই বোর্ড বসিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে খুলনার আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপতালে পাঠান। পরেরদিন সেখান থেকে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারপর থেকে অচেতন অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালের আইসিইউতে মরিয়মের চিকিৎসা চলছে। 

এবিষয়ে ২৪ মে গোপালগঞ্জ সদর থানায় ওই শিক্ষার্থীর চাচা জাকির হোসেন বাদী হয়ে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ড. তপন কুমার মণ্ডল, নার্স শাহনাজ পারভিন ও কুহেলিকাকে আসামি করে একটি হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন।

২৬ মে বিকেলে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক ড. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তদন্ত কমিটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ পারভিন ও কুহেলিকার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর শরীরে ভুল ইনজেকশন পুশ করার সত্যতা মিলেছে। এছাড়া,  সার্জারি বিভাগের বিশেষজ্ঞ ড. তপন কুমার মণ্ডলকে ভবিষ্যতে আরও সতর্কতার সঙ্গে কর্তব্য পালনের সুপারিশ করা হয়েছে। 

মুন্নির বড় ভাই হাসিবুল রুবেল বলেন, ‘এখনও আইসিইউতে অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছে মুন্নি। চিকিৎসক বলেছেন, সময় লাগবে সুস্থ হয়ে উঠতে। তবে আরও কতোদিন লাগবে সুস্থ হতে এ বিষয়ে চিকিৎসকরা কিছু বলতে পারেনি।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘সার্বক্ষণিক মুন্নির বিষয়ে খোঁজ রাখা হচ্ছে। তার পরিবারকে দুই লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। মুন্নির উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে আরও টাকা দেওয়া হবে।’

এঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযুক্তরা হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের আগাম  জামিন নিয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে রেববার ডা. তপন কুমার মণ্ডল, নার্স কুহেলিকা  গোপালগঞ্জের আমলি আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। ম্যাজিস্ট্রেট মো. হুমায়ূন কবির তাদের জামিন মঞ্জুর না করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিন নার্স শাহানাজ পারভীন আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। 

ওসি আরও বলেন, মামলার তদন্ত কাজ চলছে। তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হবে।