• রবিবার, অক্টোবর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০০ রাত

এবার শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানি, বিপাকে শিক্ষক

  • প্রকাশিত ০৯:০৬ রাত জুলাই ৯, ২০১৯
ব্রাক্ষণবাড়্রিয়া
গ্রেপ্তার শিক্ষক শামছুল ইসলাম। ছবি: ঢাকা ট্রিবিউন

এর আগেও তিনি একই অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত হন। কিন্তু আদালতের আদেশে আবারও স্বপদে বহাল হন।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার দেবগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো. শামছুল ইসলাম ওরফে পলাশকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগীসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৯ জুলাই, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

গ্রেপ্তারকৃত সিরাজুল ইসলামের বাড়ি জেলার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামে। এর আগেও তিনি একই অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে বিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত হন। কিন্তু আদালতের আদেশে আবারও স্বপদে বহাল হন।

বিদ্যালয়টির সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বাবা জানান, ইংরেজি বিভাগের সহকারি শিক্ষক শামছুল ইসলাম ওরফে পলাশ মঙ্গলবার বিকেলে শ্রেণি কক্ষেই শ্লীলতাহানি করেন। ওই শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি জানান। পরে বিষয়টি বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকদেরকে অবহিত করা হয়। এরই মধ্যে ওই শিক্ষক শিক্ষার্থীর বাড়ি গিয়ে ভুল স্বীকার করে এ বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে আসেন।

এরপর বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে তারা বিদ্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকেন। এ সময় তারা ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করে পুলিশের হাতে তুলে দিতেও আহ্বান জানান। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার রেইনা ও আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রসুল আহমেদ নিজামী বিদ্যালয়ে ছুটে যান।

ঘটনা সম্পর্কে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ মো. মাহফুজুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীর অভিভাবক এসে বিষয়টি আমাদেরকে জানান। এরপর শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদেরকে নিয়ে বিদ্যালয়ে আলোচনায় বসা হয়। পরে পুলিশ এসে তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।

আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রসুল আহমেদ নিজামী জানান, ওই শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার রেইনা বলেন, “এর আগেও এই শিক্ষক এক ধরণের ঘটনা ঘটিয়েছেন। ওই শিক্ষককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”