• বুধবার, জুলাই ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৪ রাত

২৩ বছর ধরে বেতনের অপেক্ষায় শিক্ষক

  • প্রকাশিত ০৫:৫১ সন্ধ্যা জুলাই ১০, ২০১৯
চুয়াডাঙ্গা
প্রতিষ্ঠার ২৩ বছর পরেও এমপিওভুক্ত হয়নি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার সৃজনী মডেল বিদ্যাপীঠ ঢাকা ট্রিবিউন

এক এক করে জীবন থেকে ২৩টি বছর চলে গেছে বিচিত্র কুমারের মতো স্কুলের আরও অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর

দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি করে আসছেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার শিক্ষক বিচিত্র কুমার বিশ্বাস। আর মাত্র ৪ বছর পরেই চাকরিজীবনের ইতি। প্রায় দুই যুগ ধরে শিক্ষকতা করে গেলেও সরকারের কাছ থেকে বেতন বাবদ তিনি কোনো পারিশ্রমিক পাননি। 

হবে হবে করে অবসরের সময় ঘনিয়ে এলেও এমপিও নামের সোনার হরিণটি তার হাতে ধরা দেয়নি আজও। 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিচিত্র জানালেন, শিক্ষকতা এত নির্মম পেশা জানলে হয়তো এখানে আসতাম না। অন্য কোনো কাজ করলেও সংসারটা ভালোভাবে চালাতে পারতাম। 

আলমডাঙ্গা উপজেলার সৃজনী মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৯৯৭ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে সেখানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন সদর উপজেলার বোয়ালমারী গ্রামের বিচিত্র কুমার বিশ্বাস। প্রতিদিন ৫-৬ কিলোমিটার পথ বাইসাইকেল চেপে পড়াতে আসেন তিনি। পদবীতে অফিস সহকারী হলেও ক্লাসও নিতে হয় তাকে। 

ভালো শিক্ষক হিসেবে এলাকায় পরিচিত তিনি। কিন্তু ২০০৫ সালে একাডেমিক স্বীকৃতি পেলেও দুর্ভাগ্যবশত বিদ্যালয়টি এখনও এমপিওভুক্ত হয়নি। এক এক করে জীবন থেকে ২৩টি বছর চলে গেছে বিচিত্র কুমারের মতো স্কুলের আরও অনেক শিক্ষক-কর্মচারীর। 

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আতিকুল হক ঢাকা ট্রিবিউনবে বলেন, ‍“প্রায় ৬শ’ ছাত্র-ছাত্রী আমাদের প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। এখানকার অনেক ছাত্র-ছাত্রী আজ বিভিন্ন সরকারের দপ্তরে চাকরি করছে। কিন্ত আমরা অমানবিক জীবনযাপন করছি। স্কুল থেকে যা সামান্য পাই তা দিয়ে কোনো রকম আসা-যাওয়ার খরচ চলে।”

চুয়াডাঙ্গা জেলার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের নেতা নুরুজ্জামান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত বছর সরকার ঘোষণা দিয়েছিল খুব শিগগিরই দেশের যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠাগুলো এমপিওভুক্তির আওতায় আনা হবে। সে অনুযায়ী এমপিওভুক্তির নীতিমালা জারি করে আগস্টে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়। কিন্তু বারবার এমপিওভুক্তির কথা বলা হলেও তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে না। জেলার চার উপজেলায় প্রায় ৫০টি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা ১০ থেকে শুরু করে ২২-২৪ বছর পর্যন্ত বিনা বেতনে চাকরি করছেন। বিষয়টি অমানবিক। একারণে শিক্ষকরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।” 

শিগগিরই নতুন এমপিওভুক্তির তালিকা প্রকাশের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানান আবেদন জানান তিনি।