• শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৪ রাত

গাজীপুরে পোশাক কারখানায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু

  • প্রকাশিত ০৩:১৯ বিকেল জুলাই ১১, ২০১৯
মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

আব্দুর রবের মৃত্যুর খবর কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়

গাজীপুরের বাঘের বাজারে পলমল গ্রুপের কর্টজ অ্যাপারেলস পোশাক কারখানায় হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর এক শ্রমিককে কর্তৃপক্ষ ছুটি না দেওয়ায় কর্মস্থলেই তার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন গাজীপুর শিল্প পুলিশের শ্রীপুর জোনের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর হাবিব ইস্কান্দর।

নিহত আব্দুর রব মিয়ার (২৬) বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার কামারিয়া গ্রামে। কর্টজ অ্যাপারেলস পোশাক কারখানায় সুইং আয়রনম্যান পদে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত ছিলেন তিনি।

কারখানার শ্রমিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে কারখানায় কাজ করার সময় হঠাৎ বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করেন আব্দুর রব। এসময় তার সহকর্মীরা তাকে দ্রুত কারাখানার কর্তব্যরত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। ওই চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আব্দুর রবকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার পরামর্শ দেন এবং ছুটি নিয়ে বিশ্রাম নিতে বলেন।

শ্রমিকদের অভিযোগ, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ছুটির আবেদন করলে কারখানার প্রোডাকশন ম্যানেজার শফিউল আলম আমান ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তিনি আব্দুর রবের সাথে প্রচণ্ড দুর্ব্যবহার করেন এবং তার ছুটির আবেদনপত্র ছিঁড়ে ফেলেন। পরে বাধ্য হয়ে অসুস্থ শরীর নিয়েই কাজ করতে থাকেন রব। কাজে যোগ দেয়ার ৩০ মিনিটের মধ্যেই কারখানার মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। দেখতে পেয়ে সহকর্মীরা রবকে স্থানীয় মাওনা চৌরাস্তা এলাকার আলহেরা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে অবহেলা ও ছুটি না দেয়ার বিষয়টি সঠিক নয় দাবি করে কর্টজ অ্যাপারেলস ঢাকা ট্রিবিউনকে দেয়া এক লিখিত বক্তব্যে জানায়,  "মৃত আব্দুর রব গত ১১ জুলাই আনুমানিক সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বুকে ব্যাথা অনুভব করলে দ্রুত কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের কাছে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসা এবং বিশ্রামের পরামর্শ দিলে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সাথে সাথে আব্দুর রবকে ছুটি দিয়ে সুচিকিৎসার উদ্দেশে নিজস্ব পরিবহনে স্থানীয় আল-হেরা হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করে।"

"হাসপাতালে নেওয়ার সময় রবের সাথে তার স্ত্রী, বোন এবং সহকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং হঠাৎ করে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে আব্দুর রবের মৃত্যু হয় বলে জানান।"

এদিকে, আব্দুর রবের মৃত্যুর খবর কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়।  এব্যাপারে ইন্সপেক্টর হাবিব ইস্কান্দর জানান, "শ্রমিক আব্দুর রব হৃদরোগী ছিলেন। তার মৃত্যুকে ঘিরে নানা গুজব কারখানায় ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়।”

কারখানা কর্তৃপক্ষ আরো জানান ঘটনার তদন্তে বিজিএমইএ ও জয়দেবপুর থানা পুলিশের একটি দল কারখানায় এসে ঘটনার বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছে।