• বুধবার, জুলাই ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৪ রাত

নওগাঁয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার আমানত লোপাট

  • প্রকাশিত ১১:২১ সকাল জুলাই ১২, ২০১৯
টাকা
ছবি: সংগৃহীত

গত জুন মাসে অডিট করতে গিয়ে আমানত আত্মসাতের বিষয়টি প্রকাশ পেলে বেশকিছু সঞ্চয়ী গ্রাহকের মুনাফা বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানানো হয়, ৫০ থেকে ৬০ জন গ্রাহকের জমাকৃত টাকার হদিস মিলছে না

নওগাঁয় জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরে গ্রাহকের প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ধরা পড়েছে। বিভাগীয় অডিটে বিষয়টি বেরিয়ে আসার পর এতে অফিস সহায়ক সাদ্দাম হোসেনকে দায়ী করছেন কর্মকর্তারা। ঘটনা অনুসন্ধানে নেমেছে দুদক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত জুন মাসে অডিট করতে গিয়ে আমানত আত্মসাতের বিষয়টি প্রকাশ পেলে বেশকিছু সঞ্চয়ী গ্রাহকের মুনাফা বন্ধ করে দেওয়া হয়। জানানো হয়, ৫০ থেকে ৬০ জন গ্রাহকের জমাকৃত টাকার হদিস মিলছে না। ঘটনা জানাজানির পর উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন গ্রাহকরা। ভুক্তভোগীরা ব্যাংকে জমা দেওয়া টাকার রসিদ নিয়ে প্রতিদিনই ধর্না দিচ্ছেন সঞ্চয় অধিদপ্তর অফিসে।

নওগাঁ সঞ্চয় অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত সঞ্চয় কর্মকর্তা নাসির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অডিটে গ্রাহকের টাকা আত্নসাতের ঘটনা ধরা পড়ার পর তিনি নিজে বাদী হয়ে ১৫ জুন সাদ্দামের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

তিনি আরো জানান, নওগাঁ সঞ্চয় অধিদপ্তর অফিসে ২০১৪ সাল থেকে অফিস সহায়ক পদে কর্মরত ছিলো সাদ্দাম হোসেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে হঠাৎ করে অফিসে আসা বন্ধ করে দেয় সে। এরপর ৭ মাস অফিসে আসেনি। দ্বায়িত্ব পালনকালে সাদ্দাম বেশ কিছু আমানতের হিসাবের রেকর্ড না রেখে গ্রাহককে ভুয়া সিল-স্বাক্ষরে রসিদ দিয়েছে। এধরনের বিভিন্ন পন্থায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে সাদ্দাম।

অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন গাইবান্ধা জেলা সদরের পশ্চিম কোমরনই গ্রামের বক্তার আলীর ছেলে। গত ২৫ জুন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের অনুসন্ধানীদল তাকে আটক করে। পরে সাদ্দামকে নওগাঁ সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। বর্তমানে দুদকেরটিম নওগাঁয় অবস্থান করে এমামলার তদন্ত করছে।

তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, টাকা আত্নসাতের ঘটনায় আরও তথ্য উদঘাটনের জন্য অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সাদ্দাম ছাড়াও সঞ্চয় অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা জড়িত আছে কিনা তা উদঘাটনের চেষ্টা চলছে বলেও জানান দুদক কর্মকর্তা।

আমানতকারীরা জানান, অনিয়ম ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটলে সেটি সঞ্চয় অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ব্যাপার। গ্রাহকদের কোন সম্পর্ক নেই। তাই সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করে সঞ্চয়ের মুনাফা প্রদানের দাবি জানান তারা।