• মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৩ দুপুর

৫০০ ফিট ড্রেনের অভাবে পানিবন্দি ২৫০০ পরিবার

  • প্রকাশিত ০১:১৫ দুপুর জুলাই ১৫, ২০১৯
নাটোর জলাবদ্ধতা
নাটোরের সিংড়ায় ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে পানিবন্দি মানুষ ঢাকা ট্রিবিউন

চলতি বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি শুরুর পর থেকে তারা পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বিলদহর এলাকায় ৫০০ ফিট ড্রেনের অভাবে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় আড়াই হাজার পরিবার। চরম বিপর্যস্ত অবস্থায় দিনযাপন করছেন তারা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুশান্ত কুমার ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিলদহর মৎস্যজীবী পাড়ার অধিবাসী নিতাই কুমার সরকার জানান, মৎস্যজীবী পাড়া ও হিন্দু পাড়া মিলে আড়াই হাজার পরিবারের বসবাস। স্থানীয় অধিবাসীদের বাজারে যাতায়াত, শিশুদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং স্বাস্থ্য সেবা নেওয়ার জন্য ইউনিয়ন কমিউনিটি ক্লিনিকে আসার রাস্তা একটাই।। রাস্তাটি সম্প্রতি উঁচু করায় বৃষ্টি হলেই সমস্ত পানি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে জমতে শুরু করে এবং পানি বেড়ে গেলে রাস্তাটিও ডুবে যায়। জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে, কমিউনিটি ক্লিনিক চত্বর এবং মৎস্যজীবী পাড়ায়। দীর্ঘদিন যাবৎ বিষয়টি জানিয়ে আসলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, চলতি বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি শুরুর পর থেকে তারা পানিবন্দি জীবনযাপন করছেন। গত দুই মাস ধরে শিশুরা ঠিকমতো বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। এমনকি চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী ক্লিনিকেও যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া, জীবিকা নির্বাহের জন্য বাজারে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ছবি: ঢাকা ট্রিবিউনকমিউনিটি ক্লিনিকের কর্তব্যরত চিকিৎসক ব্রজগোপাল এবং পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ইনচার্জ নুরুল ইসলামও জনগণের এ অসুবিধার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জলাবদ্ধতার কারণে যথাসময়ে সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রমজান আলী নিরব জানান, জলাবদ্ধতার কারণে শিশুদের স্কুলে আসা-যাওয়ায় সমস্যা হচ্ছে।

চামারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রশিদুল ইসলাম মৃধা জানান, মাত্র ৫০০ ফিট ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পারলে এই জলাবদ্ধতা নিরসণ সম্ভব। প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্ত্বর থেকে পার্শ্ববর্তী আত্রাই নদী পর্যন্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে জলাবদ্ধতা আর থাকবে না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট জুনাইদ আহমেদ পলককে বিষয়টি জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে এ সমস্য নিরসণে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে টেন্ডার আহ্বান করে ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন রশিদুল ইসলাম মৃধা।

বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার জানান, তিনি সরোজমিনে ঘটনাটি দেখতে বিলদহর বাজারে যাচ্ছেন। শিগগিরই বরাদ্দ হওয়া প্রকল্পের আওতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণকাজ শুরু হবে।