• শুক্রবার, আগস্ট ২৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫১ রাত

সাজাপ্রাপ্ত আসামির ব্যক্তিগত গাড়িতে কারাগারে প্রেরণ, পাঁচ পুলিশ সদস্যের সাজা

  • প্রকাশিত ০৬:৫৯ সন্ধ্যা জুলাই ১৬, ২০১৯
বাগেরহাট মান্নান
অর্থ পাচার মামলার আসামি বাগেরহাটের মান্নান ঢাকা ট্রিবিউন

দুদকের করা মামলার আসামি মান্নান ১১০ কোটি টাকা পাচার করেছেন

অর্থপাচার মামলার আসামি বাগেরহাটের নিউ বসুন্ধরা রিয়েল স্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল মান্নান তালুকদারকে এজলাস থেকে নামানোর পরে হাতকড়া না পরানো এবং আসামির ব্যক্তিগত গাড়িতে করে কারাগারে নেওয়ার অভিযোগে ৫ পুলিশ সদস্যকে বিভাগীয় সাজা দেওয়া হয়েছে। 

দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে বাগেরহাট আদালত পুলিশের (কোর্ট পুলিশ) এই পাঁচ সদস্যকে মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন জেলা পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়। আদালত থেকে তাদের প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। 

অভিযুক্তরা হলেন- সহকারী উপ পরিদর্শক (এএসআই) রফিকুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম এবং কনস্টেবল রঞ্জিত, আবুল হোসেন ও আব্দুস সোবাহান।

পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায় ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন না করে কর্তব্যে অবহেলা করেছেন। তাই তাদেরকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সোমবার বাগেরহাটের নিউ বসুন্ধরা রিয়েল ষ্টেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল মান্নান তালুকদার দুদকের করা ১১০ কোটি টাকা পাচারের মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আসামি মান্নান এজলাস থেকে বাইরে বের হলে তার আইনজীবীরা তাকে আদালত ভবনের নীচতলা পর্যন্ত এগিয়ে দেন। আদালত চত্বর থেকে ব্যক্তিগত গাড়িতে করে মান্নান তালুকদারকে জেলা কারাগারের ফটকে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

উল্লেখ্য, বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারি আব্দুল মান্নান তালুকদার ২০১০ সালে স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে নিউ বসুন্ধরা রিয়েলস্টেট লিমিটেড নামে একটি জমি কেনাবেচার প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতি লাখে মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা করে মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বাগেরহাট, খুলনাসহ বেশ কয়েকটি জেলার কমপক্ষে ২০ হাজার গ্রাহকের কাছ থেকে অন্তত ২৯৯ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করেন। যা ব্যাংকিং আইনের পরিপন্থী। গত কয়েক বছরে বাগেরহাটের ১৬টি ব্যাংকের ৩০টি হিসাব থেকে ১১০ কোটি ৩১ লাখ ৯১৩৫ টাকা ৫৮ পয়সা জমা করেন। গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ তিনি ব্যাংক থেকে তুলে পাচার করেছেন। এই অর্থ কোথায় পাচার করা হয়েছে তা জানতে দুদক অনুসন্ধান চালাচ্ছে।