• মঙ্গলবার, আগস্ট ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:২১ দুপুর

দুই বিষয়ে ‘এ’ পেয়েছে নুসরাত, স্বজনদের বিলাপ

  • প্রকাশিত ০৬:৫৭ সন্ধ্যা জুলাই ১৭, ২০১৯
নুসরাত জাহান রাফি
নুসরাত জাহান রাফি। ছবি: সংগৃহীত

ওই মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষায় নুসরাতসহ ১৭৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি আলিম পরীক্ষায় যে দুই বিষয়ে অংশ নিতে পেরেছিল সেগুলোতে ‘এ’ গ্রেড পেয়েছেন।

বুধবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত ফলাফল থেকে এতথ্য জানা গেছে। ফল প্রকাশের পর মাদ‌্রাসায় পরীক্ষার ফলাফল জানতে আসা নুসরাতের সহপাঠী শিক্ষার্থীরা নুসরাতের জন্য কান্নায় ভেঙে পড়েন।

যৌন নিপীড়নের পর হুমকি-ধমকি মাথায় নিয়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ‌্রাসা কেন্দ্রে দুটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল নুসরাত।


আরও পড়ুন- আদালতে মেয়ের হত্যাকারীদের দেখে জ্ঞান হারালেন নুসরাতের মা


সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা মো. হুসাইন বলেন, ফলাফল বিবরণীতে দেখা যায়, কোরআন মাজিদ, হাদিস ও উসুলে হাদিস পরীক্ষায় নুসরাত জাহান রাফি ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে।

ওই মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষায় নুসরাতসহ ১৭৫ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ১৫২ জন পাস করে। এ মাদরাসায় এবার পাসের হার ৮৬.৮৬ শতাংশ। 

আলিম পরীক্ষার ফল প্রকাশের খবর পাওয়ার পর থেকে কান্না থামছে না নুসরাতের স্বজনদের। নুসরাতের মা শিরিনা আক্তারের বিলাপ যেন থামছেই না।


আরও পড়ুন- 'শুধু নুসরাত নয়, একাধিকবার তাকে মেয়েদের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখেছি'


শিরিনা আক্তার বলেন, ‘‘আমার মেয়ে দুনিয়ার পরীক্ষায় পাস করতে না পারলেও আখেরাতের পরীক্ষায় পাস করবে।’’

কাঁদতে কাঁদতে নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, সকাল থেকে নুসরাতের বেশ কয়েকজন সহপাঠী ফোন দিয়ে রেজাল্টের খবর জানায়। কেউ ‘এ’ গ্রেড পেয়েছে, কেউ ‘বি’ গ্রেড। ওরা নুসরাতের কথা বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে।

নোমান আরও বলেন, নুসরাত খুব মেধাবী ছিল। ২৭ তারিখের দুর্ঘটনার পর আমরা তাকে পরীক্ষা দিতে নিরুৎসাহিত করেছিলাম কিন্তু তাও ও পরীক্ষায় অংশ নেয়। ১ ও ২ এপ্রিল দু’টি পরীক্ষায় অংশও নেয় সে। পরে ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে গেলে তাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।


আরও পড়ুন- ‘নুসরাতকে কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে যেতে দেখি’


উল্লেখ্য, গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় আলিম পরীক্ষার হল থেকে কৌশলে ছাদে ডেকে নিয়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার সহযোগীরা নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যায় নুসরাত।