• বুধবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০৫ রাত

মিন্নির রিমান্ডে নিতে যেসব যুক্তি দেখিয়েছে পুলিশ

  • প্রকাশিত ১০:৪৩ রাত জুলাই ১৭, ২০১৯
মিন্নি
নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।ছবি: ফাইল ছবি/ফোকাস বাংলা।

এ সময় মিন্নি বলেছেন, ‘রিফাত শরীফ আমার স্বামী। আমি আমার স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িত না। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না। আমাকে ষড়যন্ত্র করে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।’

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী ও হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। বেশ কয়েকটি কারণ দেখিয়ে এবং অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ এই রিমান্ডের আবেদন করে। এদিকে আদালতে রিমান্ড শুনানি চলাকালে বিচারকের এক প্রশ্নে মিন্নি নিজেকে নিরপরাধ দাবি করেন এবং স্বামীর খুনিদের ফাঁসির দাবি জানান।

১৭ জুলাই, বুধবার বিকাল ৩টায় বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মিন্নিকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। বিচারক মোহাম্মাদ সিরাজুল ইসলাম গাজী তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন। খবর বাংলা ট্রিবিউনের।

বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট সঞ্জিব দাস বলেন, “বিকাল ৩টার দিকে বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়ে আসা হয় নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের বিচারকের কাছে মিন্নিকে কী কারণে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মনে হয়েছে সেই বিষয়গুলো উপস্থাপন করেন। এ সময় তদন্ত কর্মকর্তা মিন্নির সঙ্গে আসামিদের কললিস্ট, বিভিন্ন সময়ে যোগাযোগ, নয়ন বন্ডের সঙ্গে মিন্নির বিয়ের বিষয় ও এজাহারভুক্ত আসামি টিকটক হৃদয়ের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির তথ্য আদালতে উপস্থাপন করেন। এরপর তদন্ত কর্মকর্তা মামলার রহস্য উদঘাটন ও অধিকতর তদন্তের জন্য মিন্নির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।”

সঞ্জিব দাস বলেন, “মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, রিফাত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি টিকটক হৃদয় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে রিফাত হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় মিন্নি জড়িত ছিল। এই হত্যাকাণ্ডের আগে এজাহারভুক্ত সব আসামির সঙ্গে বিভিন্ন সময় এই আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রক্ষা করেছে, সেই কললিস্ট তদন্ত কর্মকর্তা উপস্থাপন করেছেন। এ সময় আদালতের কাছে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় তাকেই কথা বলার সুযোগ দেন।”

এই আইনজীবী আরও জানান, “আদালতের বিচারক মিন্নিকে প্রশ্ন করেন, ‘এই মামলায় আপনার কোনও আইনজীবী না থাকায় আপনার বক্তব্য কী?’ এ সময় মিন্নি বলেছেন, ‘রিফাত শরীফ আমার স্বামী। আমি আমার স্বামী হত্যার সঙ্গে জড়িত না। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের বিচার চাই। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত না। আমাকে ষড়যন্ত্র করে এই মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।’ ‘এজাহারভুক্ত আসামিদের সঙ্গে আগে থেকেই আপনার যোগাযোগ ছিল এবং আসামি নয়ন বন্ডের সঙ্গে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সম্পর্ক ছিল- সে বিষয়ে আপনার কী বক্তব্য’ বিচারকের এমন প্রশ্নের জবাবে মিন্নি নিরুত্তর ছিলেন।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবির বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে রিফাত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে মিন্নির সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য আমরা মিন্নিকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলাম, আদালতের বিজ্ঞ বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহজাহান হোসেন বলেন, “রিফাত হত্যা মামলা দেশব্যাপী একটি আলোচিত হত্যা মামলা। এ মামলায় মিন্নিকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।”

কোন কোন কারণের ওপর ভিত্তি করে মিন্নিকে এই হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তদন্তের স্বার্থে কিছুই বলতে রাজি হননি।

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এখন পর্যন্ত ১০ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।