• সোমবার, আগস্ট ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৪ বিকেল

এমপি শম্ভুর ব্যক্তিগত অফিসে মিন্নির আইনজীবীর বৈঠক

  • প্রকাশিত ১১:৪৮ সকাল জুলাই ২১, ২০১৯
মিন্নি
আদালত প্রাঙ্গণে আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। ঢাকা ট্রিবিউন

মিন্নির আইনজীবী তার কাছে আসার কারণ জানতে চাইলে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, ‘তারা চা খেতে এসেছিল।’

বরগুনা-১ আসনের সংসদ সংদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর সঙ্গে একান্তে বৈঠক করেছেন আলোচিত রিফাত হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলামকে। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর সংসদ সদস্য শম্ভুর বিরুদ্ধে মামলায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগ করছেন শুরু থেকেই। তার সঙ্গে আইনজীবীর এমন বৈঠকের সমালোচনা করেছেন মোহাম্মেল হোসেন কিশোর।

শনিবার (২০ জুলাই) রাতে বরগুনার সদর রোডের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ব্যক্তিগত ল’ চেম্বারের পেছনের একটি কক্ষে তাকে দেখা যায়। এসময় তার সঙ্গে বরগুনা বারের সভাপতি আব্দুর রহমান নান্টুকেও দেখা গেছে। এর একদিন আগে গত শুক্রবার (১৯ জুলাই) মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর গণমাধ্যমে দেয়া এক বক্তব্যে বলেছিলেন, “আমার মেয়ে জীবন বাজি রেখে তার স্বামীকে রক্ষা করতে গেছে। এটাই তার অপরাধ? এ সবকিছুই শম্ভু বাবুর (স্থানীয় সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু) খেলা। তার ছেলে সুনাম দেবনাথকে রক্ষা করার জন্য আমার মেয়েকে বলি দেওয়া হচ্ছে।”

শনিবার রাতে সংসদ সদস্যের বরগুনার সদর রোডের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে তার সাক্ষাতের জন্য এ প্রতিবেদকের অপেক্ষমাণ থাকাকালে ৯:৪৫ মিনিটের সময় বরগুনা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আব্দুর রহমান নান্টু এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী আসলামকে ভিতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কক্ষে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্যের পুত্র সুনাম দেবনাথ ও বরগুনার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আক্তারুজ্জামান বাহাদুর। তারা কক্ষের ভেতরে প্রবেশের পর ভেতর থেকে সুনাম একবার কক্ষের দরজা আটকে দেন।

এই সময়ে কক্ষের বাইরে নিহত রিফাত শরিফের বাবা দুলাল শরিফ অপেক্ষমাণ ছিলেন। তবে ৯:৫৩ মিনিটের সময় সংসদ সদস্যের পুত্র সুনাম দেবনাথ কক্ষ থেকে বের হয়ে দুলাল শরিফের সঙ্গে কানেকানে কথা বলেন। এরপর দুলাল শরীফ চেম্বার থেকে বের হয়ে দ্রুত চলে যান।

মিন্নির পক্ষে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম, বারের সভাপতি আব্দুর রহমান নান্টু ও বরগুনার অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আক্তারুজ্জামান বাহাদুর প্রায় ৩০ মিনিট পর ১০:১৫ মিনিটের সময় একান্ত আলাপ শেষে আইনজীবীরা সংসদ সদস্যের কার্যালয় ত্যাগ করেন।

তবে সংসদ সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসা লোকজনের ভিড় ঠেলে তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেও এবিষয়ে তাদের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এরপর তাদের মুঠোফোনে এবিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, “আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্যের কাছে আসতেই পারে। এটা সৌজন্য সাক্ষাৎ বলে উল্লেখ করেন তিনি।”

সংসদ সদস্য কি তাদের ডেকে ছিল, নাকি তারা ইচ্ছা করেই সংসদ সদস্যের সঙ্গে দেখা করতে গেছেন? জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, “এমপি বারের সভাপতিকে ফোন দিয়েছিল, তিনি আমাকে জানানোর পর আমি সভাপতির সঙ্গে এসেছি।”

এবিষয়ে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনাদের বুঝতে আর কিছু বাকি আছে?”

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় মিন্নির আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট আসলাম সংসদ সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যেতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কোনভাবেই পারেন না।”

তিনি এবিষয়ে অন্য নিজেদের আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানিয়েছেন।

মিন্নির আইনজীবী তার কাছে আসার কারণ জানতে চাইলে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর না দিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, “তারা চা খেতে এসেছিল।”

প্রসঙ্গত, ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তখন তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের থামানোর চেষ্টা করেও সফল হননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার এজাহারে উল্লেখ থাকা ৮ আসামিসহ সন্দেহভাজন আরও ৭ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে।