• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৬ দুপুর

বাবা ও আইনজীবীর দাবি মিন্নি অসুস্থ, চিকিৎসকের দাবি সুস্থ

  • প্রকাশিত ০৬:৫৩ সন্ধ্যা জুলাই ২৬, ২০১৯
মিন্নি
নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।ছবি: ফাইল ছবি/ফোকাস বাংলা।

ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘না তেমন কোনো কিছু দেখা যায়নি। তাছাড়া মিন্নিও তেমন কিছুই বলেননি। তবে তার একটু ঘুম কম হচ্ছে। সকালে যেহেতু জেলখানার কিছু নিয়ম-কানুন আছে, সেহেতু সকাল বেলা তিনি ঘুমাতে পারেন না।’

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার মামলাটির এক নম্বর সাক্ষী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি জেল হাজতে সুস্থ আছেন দাবি করেছেন বরগুনা সিভিল সার্জন অফিসের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাবিবুর রহমান। তবে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন ও তার আইনজীবীর দাবি মিন্নি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। 

২৬ জুলাই, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে বরগুনার জেল হাজতে মিন্নির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন জেলা সিভিল সার্জন অফিসের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. হাবিবুর রহমান। এ সময় জেল সুপার আনোয়ার হোসেন তার সঙ্গে ছিলেন। 

মিন্নির স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “মিন্নির স্বাস্থ্য পরীক্ষায় দেখা গেছে, মিন্নি তেমন কোনো গুরুতর অসুস্থ নয়, একটু শারীরিক ব্যথা-বেদনা থাকতে পারে। এত বড় একটা ঘটনা ঘটে গেল, তাই তিনি মানসিকভাবে একটু চাপে আছেন। ভয়ের কিছু নেই, দুশ্চিন্তার কিছু নেই। তিনি অনেক ভালো আছেন। বাইরে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার মতো কোনো ঘটনা এখনো ঘটেনি।” 

মিন্নিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নর জবাবে ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, “না তেমন কোনো কিছু দেখা যায়নি। তাছাড়া মিন্নিও তেমন কিছুই বলেননি। তবে তার একটু ঘুম কম হচ্ছে। সকালে যেহেতু জেলখানার কিছু নিয়ম-কানুন আছে, সেহেতু সকাল বেলা তিনি ঘুমাতে পারেন না। আমরা কারা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি, উনি যতটুকু রেস্ট নিতে চান যেন তা নিতে পারেন। কারা কর্তৃপক্ষও সেটা দেখবে বলে জানিয়েছে।”

আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার দাবির বিষয়ে ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, “আমাদের কাছে তেমনটি মনে হয়নি। তবে যদি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে বা কোনো কারণে অসুস্থ বোধ করে সে ক্ষেত্রে তাকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হবে।” 

তবে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, আমার মেয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ তাকে ভিতরে ঠিকমতো চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে না। যাতে আমার মেয়ের চিকিৎসা সেবা পেতে পারে তার জন্য তাকে জেলখানার বাইরে হাসপাতালে এনে ডাক্তার দেখানো উচিত। 

তিনি আরো বলেন, আমি যখন আমার মেয়ের সাথে দেখা করেছি তখন আমার মেয়েকে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখেছি। আমার মেয়ে বলেছে, আমার সারা শরীরে ব্যাথা ও রাতে ঘুমোতে পারছি না। আমার মেয়ের কোনো ক্ষতি হলে তার দায়ভার জেল কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। 

এর আগে মিন্নির সাথে দেখা করে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেছেন, “মিন্নির সাথে আমি দেখা করেছি, তিনি বলেছেন, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ তার চিকিৎসার প্রয়োজন। তার চিকিৎসার জন্য বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চিকিৎসার জন্য আবেদন করলে বিচারক বলেন, এ বিষয়ে জেল কর্তৃপক্ষ সিদ্বান্ত নিবে।” 

এ বিষয়ে জেল সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, “আজকে চিকিৎসক তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখেছে তার তেমন কোনো শারীরিক সমস্যা নেই যাতে তাকে বাইরে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া লাগতে পারে। তবে তিনি যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন তবে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।” 

রিফাত হত্যা মামলার ১ নম্বর সাক্ষী ও নিহত রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৬ জুলাই রাত ৯টায় গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৭ জুলাই বরগুনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষ না হতেই ১৯ জুলাই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন মিন্নি। 

রিফাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ১৫ আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা সবাই ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। প্রধান আসামি নয়ন বন্ড ২ জুলাই পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত ১২ আসামির মধ্যে এখনও চার জন গ্রেফতার হয়নি। 

প্রসঙ্গত, ২৬ জুন সকালে প্রকাশ্যে বরগুনা সরকারি কলেজ গেটের সামনে রিফাতকে কুপিয়ে আহত করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল নেওয়ার পর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা আবদুল হালিম দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন।